অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা বিশ্বের ইতিহাসে রেকর্ড করা সবচেয়ে ভয়াবহ ও নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা ইউএনসিটিএডি। সংস্থাটি জানিয়েছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় ৯২ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন। খবর এএফপির।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে ইউএনসিটিএডির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব পেদ্রো ম্যানুয়েল মোরেনো বলেন, গাজার অর্থনীতির এই ধস বিশ্বের ইতিহাসে অন্যতম গুরুতর অর্থনৈতিক সংকট। চলমান ধ্বংসযজ্ঞ গাজার কয়েক দশকের উন্নয়নকে মুছে দিয়েছে এবং জনগণকে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে ফেলেছে।
ইউএনসিটিএডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার ৯২ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত অথবা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। বর্তমানে সেখানে মাথাপিছু দৈনিক জিডিপি মাত্র শূন্য দশমিক ৫৮ ডলারে নেমে এসেছে। ২০২২ সালের তুলনায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে প্রায় ২৭৪ শতাংশ।
সংস্থাটির ফিলিস্তিনি সহায়তাবিষয়ক সমন্বয়কারী মুতাসিম এলাগ্রা বলেন, ২০২৩ সালের অক্টোবরের আগে গাজার প্রতি তিনজন মানুষের মধ্যে দুজন দারিদ্র্যের মধ্যে ছিলেন। বর্তমানে প্রায় প্রতিটি গাজাবাসী বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের শিকার।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গাজায় শিল্প কার্যক্রম ও কৃষি উৎপাদন ৯৪ শতাংশ কমে গেছে। মোট আবাদি জমির মাত্র ১ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। ফলে সেখানকার মানুষ প্রায় পুরোপুরি মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।
এদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরের ভঙ্গুর অর্থনীতির বিষয়েও সতর্ক করেছে ইউএনসিটিএডি। সংস্থাটি বলেছে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডগুলো দ্রুতই ব্যাংকিং ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এর সামাজিক ও মানবিক পরিণতি সুদূরপ্রসারী হতে পারে।
Leave a comment