ইউক্রেনজুড়ে বুধবার রাতভর রাশিয়ার চালানো ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রভাবে কেঁপে উঠেছে প্রতিবেশী ও ন্যাটোভুক্ত দেশ পোল্যান্ড। পশ্চিম ইউক্রেনের লভিভ শহরে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পরপরই সীমান্তবর্তী পোল্যান্ডের আকাশসীমায় অচেনা বস্তুর উপস্থিতি ও লুবলিন অঞ্চলে বিকট বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এটি রুশ ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত প্রমাণিত হলে, চলমান ইউক্রেন যুদ্ধে ন্যাটোভুক্ত কোনো দেশে রাশিয়ার প্রথম হামলা বা সরাসরি আঘাতের ঘটনা হিসেবে গণ্য হবে।
পোলিশ সশস্ত্র বাহিনীর অপারেশনাল কমান্ড জানিয়েছে, ইউক্রেন সীমান্ত লাগোয়া আকাশে অন্তত ১২টি রুশ ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যম ‘ওনেট’-এর তথ্য অনুযায়ী, অচেনা বস্তুর গতিবিধি টের পেয়ে পোল্যান্ড তাৎক্ষণিকভাবে একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে এবং লুবলিনের বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজানো হয়। পরবর্তীতে লুবলিনের একটি খোলা মাঠে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হতে দেখা যায়, যা রাতে বাসিন্দাদের শোনা বিকট বিস্ফোরণের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশটির সামরিক বাহিনী আকাশসীমা লঙ্ঘনের এই ঘটনা তদন্ত করে দেখছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পোল্যান্ডকে লক্ষ্য করে মস্কোর ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন ছোড়ার বিষয়টি নিশ্চিত হলে তা ইউরোপীয় যুদ্ধের গতিপথ সম্পূর্ণ বদলে দেবে এবং ন্যাটোর বিরুদ্ধে বড় ধরনের উসকানি হিসেবে বিবেচিত হবে। চলতি মাসের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছিল, ন্যাটোর ঐক্য ও প্রতিরক্ষার শক্তি পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে মস্কো পোল্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ড্রোন বা বিমান হামলা কিংবা সীমান্তে ‘হাইব্রিড হামলা’ চালানোর পরিকল্পনা করছে।
ওয়াশিংটনের এই গোয়েন্দা সতর্কবার্তার মূল উদ্দেশ্য ছিল পোল্যান্ডকে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করতে বাধ্য করা এবং পশ্চিমা মিত্রদের চাপ সৃষ্টি করে ইউক্রেনে সামরিক সহায়তা বন্ধ করানো। মস্কো যদি সত্যিই এই ধরনের কৌশলগত উসকানি দিয়ে থাকে, তবে তা উত্তর আটলান্টিক সামরিক জোটকে (ন্যাটো) সরাসরি এই যুদ্ধে টেনে আনার এক বিপজ্জনক বার্তা দিচ্ছে।
Leave a comment