আদালতের নির্দেশনার পর সাবেক বিতর্কিত সেনা কর্মকর্তা ও এনটিএমসির সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানের মিরপুর ডিওএইচএসের ফ্ল্যাটে মালামালের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গোপন সম্পদ জব্দের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই বিশেষ অভিযান শুরু করেছে সংস্থাটি।
আজ বুধবার সকাল থেকে দুদকের উপ-পরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ একটি বিশেষ টিম মিরপুর ডিওএইচএসের ওই বাসায় ইনভেন্টরি বা মালামাল গণনার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সংস্থাটির উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ২০ জুলাই নারায়ণগঞ্জে জিয়াউলের জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের একটি ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ দামি আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, স্বর্ণালংকার ও শোপিস জব্দের কথা জানিয়েছিল দুদক। জিয়াউল আহসান ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে থাকা অবৈধ স্থাবর সম্পত্তির সঠিক ব্যবস্থাপনা, তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিভিন্ন জেলা প্রশাসক ও গণপূর্ত বিভাগকে তত্ত্বাবধায়ক (রিসিভার) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন আদালত।
উল্লেখ্য, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে তার ১৮ কোটি টাকার জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট ক্রোক এবং ৯টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাকে সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত করা হয় এবং ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
Leave a comment