সাম্প্রতিক সময়ে আশঙ্কাজনক হারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রতিবাদে ইরানের বৃহত্তম কারগার ‘ঘেজেল হেসার’-এর দেড় হাজারেরও বেশি বন্দি নিজেদের ঠোঁট সেলাই করে গণঅনশন কর্মসূচি পালন করছেন। বিশেষ করে মাদক-সংক্রান্ত মামলা এবং সরকারবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত থাকার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় তারা অভূতপূর্ব এই চরম প্রতিবাদ শুরু করেছেন।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, রাজধানী তেহরানের অদূরে অবস্থিত ঘেজেল হেসার কারাগারে গত দুই সপ্তাহ ধরে এই নজিরবিহীন আন্দোলন চলছে। মূলত মাদক মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছয় বন্দিকে ফাঁসি কার্যকরের জন্য নির্জন সেলে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই কারাগারজুড়ে অনশনের সূচনা ঘটে। দীর্ঘ দিন ধরে অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার পরও কর্তৃপক্ষের কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিবাদী বন্দিরা সুই-সুতো দিয়ে নিজেদের ঠোঁট সেলাই করার মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নেন।
কারাগারের ভেতর থেকে পাওয়া নানা ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, বন্দিরা বারান্দায় বসে ‘মৃত্যুদণ্ডকে না বলুন’ এবং ‘আমাদের কণ্ঠস্বর হোন’ লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করছেন। একই সঙ্গে গুরুতর অসুস্থ বন্দিদের উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে করুণ আকুতি জানাতে দেখা গেছে। ভিডিওতে আরও উঠে আসে, অসুস্থদের দ্রুত চিকিৎসার আবেদন জানানো হলেও কারারক্ষীরা সেলের দরজা বন্ধ রাখায় তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাদক মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অধিকাংশই সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সদস্য, যাদের পক্ষে কথা বলার কেউ নেই। উল্লেখ্য, শুধু গত বছরই দেশটিতে মাদক-সংক্রান্ত মামলায় অন্তত ৭৯৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের গোড়ার দিকে শুরু হওয়া মৃত্যুদণ্ডবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এই অনশনকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বন্দিদের সর্বশেষ রক্তক্ষয়ী ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরেও একই কারাগারে প্রায় দেড় হাজার বন্দি টানা ছয় দিন অনশন কর্মসূচি পালন করেছিলেন। তবে সে সময় কারা কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে এলেও বাস্তব অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। ফলে এবার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর দৃষ্টি আকর্ষণের লক্ষ্যেই নিজেদের জীবন চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়ে এই আমরণ প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন বন্দিরা।
Leave a comment