ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলনে নতুন মোড় এসেছে। প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইন প্রণয়নের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগসহ তাদের মূল দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নরেন্দ্র মোদি বলেন, প্রশ্নফাঁস কোনো সাধারণ অপরাধ নয়; এটি লাখো শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত। তিনি জানান, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট এবং কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি বিল মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। বিলটি চলতি সংসদ অধিবেশনেই পাসের চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষাবর্ষ যাতে নষ্ট না হয়, সে জন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা আয়োজন ও ফল প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে আন্দোলনের অন্যতম মুখ সোনম ওয়াংচুক কেন্দ্রীয় সরকারের আশ্বাসের পর ২৬ দিনের অনশন প্রত্যাহার করেছেন। তবে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) জানিয়েছে, ওয়াংচুকের অনশন ভাঙলেও তাদের আন্দোলন থামছে না। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কারের দাবিতে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে।
আন্দোলনের মধ্যেই কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ আমলা বিনীত জোশীকে সরিয়ে নতুন সচিব হিসেবে নরেশ গাঙ্গোয়ারকে নিয়োগ দিয়েছে ভারত সরকার। তবে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান তাঁর দায়িত্বে বহাল রয়েছেন।
অন্যদিকে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো আন্দোলনকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সরকারের সমালোচনা অব্যাহত রেখেছে। বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী মোদির ঘোষণাকে যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন।
সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও আন্দোলনকারীরা বলছেন, কেবল আশ্বাসে নয়, দাবিগুলোর বাস্তবায়নেই আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।
Leave a comment