বিদেশের মাটিতে পরিবারের সচ্ছলতা ও সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন দুই ভাই। কিন্তু একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা মুহূর্তেই কেড়ে নিল সেই স্বপ্ন, নিভিয়ে দিল দুটি তাজা প্রাণ। সৌদি আরবে এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার একই পরিবারের দুই সহোদর। রেমিট্যান্স যোদ্ধা এই দুই ভাইয়ের অকাল মৃত্যুর সংবাদে গ্রামের বাড়িতে এখন শুধুই কান্নার রোল, স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার আকাশ-বাতাস।
নিহত দুই ভাই হলেন-ফয়েজ আহমেদ সজীব ও ফরহাদ হোসেন সুজন। তাঁরা চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের গণিপুর গ্রামের খলিফাবাড়ির স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল মালেকের বড় ও মেজ ছেলে। পরিবারের হাল ধরতে এবং মা-বাবার মুখে হাসি ফোটাতে তাঁরা মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন।
নিহতদের সহকর্মী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার দিবাগত শেষ রাতে (ভোররাতে) সৌদি আরবে নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালামাল নিয়ে গাড়িযোগে ফিরছিলেন সজীব ও সুজন। পথিমধ্যে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী গাড়ি তাঁদের বহনকারী গাড়িটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। মুখোমুখি সংঘর্ষে গাড়িটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে গাড়ির ভেতরেই গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই দুই ভাই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
বুধবার দুই ভাইয়ের মৃত্যুর খবর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে পুরো চন্দ্রগঞ্জ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। কামারহাট বাজারসহ আশপাশের এলাকায় নেমে এসেছে শোকাতুর নীরবতা। আদরের দুই সন্তানকে একসঙ্গে হারিয়ে বাবা আব্দুল মালেক ও মা বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন। প্রতিবেশীরা জানান, সজীব ও সুজন অত্যন্ত বিনয়ী, পরোপকারী ও কঠোর পরিশ্রমী যুবক ছিলেন। পরিবারের প্রধান দুই উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে পরিবারটি এখন সম্পূর্ণ দিশেহারা।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোকের ঢল নেমেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা এখন অশ্রুসজল চোখে তাঁদের প্রিয় সন্তানদের শেষবারের মতো দেখার অপেক্ষায় দিন গুনছেন। মরদেহ দুটি দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের জরুরি ও কার্যকর সহযোগিতা কামনা করেছেন অসহায় পরিবারটি। স্বজনদের আকুতি, অন্তত শেষবারের মতো যেন দুই ভাইয়ের মুখ দেখে নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাঁদের দাফন সম্পন্ন করতে পারেন।
Leave a comment