যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি বিমান হামলার ধারাবাহিকতায় আবারও বিশ্বের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এবং এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের অবসান না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে রোববার (১২ জুলাই) তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইরানের এই আকস্মিক ও কঠোর পদক্ষেপে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে বড় ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ অননুমোদিত রুট দিয়ে চলাচল করায় সেটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। আইআরজিসির দাবি, তথাকথিত ওই ‘অপরাধী’ জাহাজটি নিজের অবস্থান শনাক্তকারী ট্র্যাকিং সিস্টেম সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়ে সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছিল এবং একাধিক সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে অনুমোদিত রুট থেকে সরে গিয়েছিল। এই ঘটনার পরই হরমুজ প্রণালীতে সব ধরনের নৌযান চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য ব্লক করে দেয় তেহরান।
আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইরানের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের বিদেশি আগ্রাসনের ‘কঠোর ও নির্মম জবাব’ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে এই অঞ্চলে শত্রুপক্ষের নতুন কোনো সামরিক ঘাঁটি গড়ে উঠলে সেগুলোকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হবে বলেও তেহরান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীতে নতুন করে এই অবরোধের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধাবস্থা শুরু হওয়ার পর প্রথমবার হরমুজ প্রণালী বন্ধ করেছিল তেহরান। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা এবং সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর এই নৌপথটি পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছিল। তবে গত কয়েক মাসে মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দফায় দফায় এই প্রণালী বন্ধ ও খোলার খেলা চলেছে। সবশেষ রোববার মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরপরই আবারও হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধের ঘোষণা দিল আইআরজিসি, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ সৃষ্টির শঙ্কা বাড়াল।
Leave a comment