মো: ইয়াছিন সরকার, কুমিল্লা
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার টনকীতে গৃহবধূ আফসানা আক্তার হ্যাপিকে (২৮) ধর্ষণের পর বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এই ঘটনার একমাত্র আসামি গোলাম জিলানীকে (৩২) দ্রুত গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন চৈনপুর গ্রামবাসী।
শনিবার দুপুরে কোম্পানীগঞ্জ-নবীনগর সড়কের টনকী বাজার এলাকায় এই কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে চৈনপুর গ্রামের সহস্রাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন। এ সময় সড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
মানববন্ধন শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, টনকী গ্রামের বারিয়াপাড়া এলাকার কনু মিয়ার ছেলে গোলাম জিলানী দীর্ঘদিন ধরে ওই গৃহবধূকে উত্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। হ্যাপির সন্তানদেরও বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হতো। গত ৬ জুলাই দুপুরে হ্যাপির বাড়িতে কোনো পুরুষ মানুষ না থাকার সুযোগে জিলানী ঘরে ঢুকে তাঁকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এরপর হ্যাপির মুখে জোর করে কেরি (পোকানাশক) ট্যাবলেট খাইয়ে পালিয়ে যান জিলানী। পরে হ্যাপির চিৎকার শুনে স্থানীয় ব্যক্তিরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনার সাত দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে জিলানীকে গ্রেফতার করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা। নিহত হ্যাপির তিনটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
সমাবেশে বক্তব্য দেন মাওলানা আলাউদ্দিন, মাহমুদ হানজালা, সেলিম মুন্সী, আল-আমিন, শিশু মরিয়ম ও আয়েশা আক্তার। এ সময় লোকমান হোসেন, আবদুর রহমান, ইমরান মাজহারী, ওমর ফারুক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত ৭ জুলাই হ্যাপির স্বামী আল-আমিন বাদী হয়ে গোলাম জিলানীকে একমাত্র আসামি করে বাঙ্গরা বাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
জানতে চাইলে বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিউল আলম প্রথম আলোকে বলেন, “এ ঘটনায় থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিকে দ্রুত গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
Leave a comment