২০২৬ বিশ্বকাপ জিততে পারলে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের জন্য অপেক্ষা করছে বিশাল অঙ্কের আর্থিক পুরস্কার। শিরোপা জিতলে দলটির খেলোয়াড়রা বোনাস হিসেবে ভাগ করে নেবেন ১ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০৩ কোটি টাকা।
ইংলিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, বিশ্বকাপ জয়ের জন্য বিশেষ এই বোনাস কাঠামো নির্ধারণ করেছে ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ)। খেলোয়াড়দের পাশাপাশি প্রধান কোচ টমাস টুখেলও পাবেন ৩০ লাখ পাউন্ড, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় ২০ কোটি ৬০ লাখ টাকা। কোচিং স্টাফদের জন্যও রাখা হয়েছে পৃথক বোনাস।
এদিকে, ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য রেকর্ড পরিমাণ পুরস্কার অর্থ ঘোষণা করেছে ফিফা। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৫ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬২২ কোটি টাকা। রানার্সআপ দল পাবে ৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার বা প্রায় ৪১৫ কোটি টাকা।
ফিফার ঘোষিত পুরস্কার কাঠামো অনুযায়ী, তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দল পাবে ৩ কোটি ডলার (প্রায় ৩৬৬ কোটি টাকা) এবং চতুর্থ স্থান পাওয়া দল পাবে ২ কোটি ৮০ লাখ ডলার (প্রায় ৩৪২ কোটি টাকা)।
এ ছাড়া কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছানো দলগুলো (পঞ্চম থেকে অষ্টম) পাবে ২ কোটি ডলার, শেষ ষোলোয় থাকা দলগুলো (নবম থেকে ষোড়শ) পাবে ১ কোটি ৬০ লাখ ডলার এবং গ্রুপ পর্ব পেরোতে না পারা দলগুলোর জন্যও নির্ধারিত রয়েছে অংশগ্রহণভিত্তিক পুরস্কার।
ফিফার মোট পুরস্কার তহবিল ৮৭ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার। এর মধ্যে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ৭০ কোটি ৩০ লাখ ডলার বিতরণ করা হবে। বাকি অর্থ অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর বিভিন্ন সাংগঠনিক ও প্রস্তুতিমূলক ব্যয়ে দেওয়া হবে।
বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া প্রতিটি দেশ অংশগ্রহণ ফি হিসেবে পাবে ১ কোটি ডলার। পাশাপাশি প্রস্তুতি ভাতা হিসেবে আরও ২৫ লাখ ডলার দেওয়া হবে। এ ছাড়া প্রতিনিধি দলের ভ্রমণ, লজিস্টিকস ও প্রশাসনিক ব্যয় মেটাতে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও রেখেছে ফিফা।
এদিকে, শনিবার কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। এই ম্যাচে হেরে বিদায় নিলে দলটি ফিফার কাছ থেকে পাবে ১ কোটি ৯০ লাখ ডলার। দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, এই অর্থের একটি অংশ খেলোয়াড়দের মধ্যে বোনাস হিসেবে বিতরণ করা হবে।
তবে বোনাসের অর্থ সব খেলোয়াড় সমানভাবে পাবেন না। টুর্নামেন্টে কে কত সময় মাঠে খেলেছেন, তার ওপর ভিত্তি করেই ব্যক্তিগত বোনাস নির্ধারণ করা হবে।
এ ছাড়া প্রতিটি ম্যাচে অংশ নেওয়ার জন্য খেলোয়াড়দের দৈনিক ভাতাও দেওয়া হয়। তবে দীর্ঘদিনের প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা সেই অর্থ নিজেরা গ্রহণ না করে বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করে থাকেন।
Leave a comment