চলতি ফিফা বিশ্বকাপে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে অবিশ্বাস্য লড়াই উপহার দিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিলেও, বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সফলতার এক দুর্দান্ত স্বীকৃতি পেল মিসর। মেসিদের বিদায়ের শঙ্কা জাগিয়ে তোলা আফ্রিকার এই প্রতিনিধিরা তাদের লড়াকু পারফরম্যান্সের সুবাদে বড় অঙ্কের আর্থিক পুরস্কার পেতে যাচ্ছে। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার প্রাইজমানি কাঠামো অনুযায়ী, মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ) এবার রেকর্ড ১৮.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় দুইশ কোটি টাকা) আয় করতে চলেছে।
বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ১৬ (শেষ ষোলো) এর ম্যাচে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হয়েছিল মিসর। হাইভোল্টেজ সেই ম্যাচে প্রথমে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের কাছে ৩-২ গোলে হারতে হয় ফারাওদের। যদিও এই হারের মাধ্যমে দলটির বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়েছে, তবুও মাঠের খেলায় তাদের আক্রমণাত্মক ও গোছানো পারফরম্যান্স ফুটবল বিশ্বের ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছে।
এবারের আসরে কেবল আর্থিক পুরস্কারই নয়, মাঠের পারফরম্যান্সেও একের পর এক ইতিহাস গড়েছে মিসর। নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে পরাজিত করে বিশ্বকাপের নকআউটের ইতিহাসে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নেয় তারা। পাশাপাশি, দেশের ফুটবল ইতিহাসে এই প্রথম একক কোনো বিশ্বকাপ আসরে সর্বোচ্চ পাঁচটি ম্যাচ খেলার গৌরব অর্জন করেছে দলটি। শুধু তাই নয়, আক্রমণভাগেও এবার মিসরের সেরা রূপটি দেখা গেছে; পুরো টুর্নামেন্টে মোট ৮টি গোল করে বিশ্বকাপের এক আসরে নিজেদের সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ড গড়েছে ফারাওরা।
বেলজিয়াম, ইরান ও নিউজিল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দল নিয়ে গঠিত গ্রুপ থেকে রানার্সআপ হয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছিল মিসর। পুরো টুর্নামেন্টে দুটি জয়, দুটি ড্র ও মাত্র একটি হারের সমীকরণ নিয়ে তারা বিশ্বকাপ শেষ করে। ফিফার বর্তমান প্রাইজমানি বণ্টন নীতি অনুযায়ী, বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ও আনুষঙ্গিক ব্যয়ের জন্য মিসরকে দেওয়া হচ্ছে ২.৫ মিলিয়ন ডলার। মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করায় নিশ্চিত হয়েছে আরও ১০ মিলিয়ন ডলার এবং শেষ ষোলোতে ওঠার অনন্য কৃতিত্বের জন্য তাদের ঝুলিতে যোগ হচ্ছে অতিরিক্ত ৬ মিলিয়ন ডলার।
সব মিলিয়ে এই আসর থেকে মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের মোট আর্থিক প্রাপ্তি দাঁড়িয়েছে ১৮.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে যেকোনো একক আসর থেকে মিসরের সর্বোচ্চ আর্থিক আয়ের এক নতুন রেকর্ড। মাঠের ট্রফি হাতছাড়া হলেও এই বিপুল অর্থ প্রাপ্তি এবং ঐতিহাসিক পারফরম্যান্স মিসরের ফুটবলকে আগামী দিনে আরও বহুদূর এগিয়ে নেবে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা।
Leave a comment