মৌলভীবাজারের রাজনগরে নিখোঁজের দীর্ঘ ১৮ দিন পর নিজ বাড়ির আঙিনার প্রায় ১০ ফুট গভীর মাটির নিচ থেকে জায়োদা বেগম নামের এক গৃহবধূর গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্ত্রীকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করার পর লাশ গুম করে ‘সৌদি আরব চলে গেছেন’ বলে মিথ্যা নাটক সাজিয়েছিলেন ঘাতক স্বামী আলমগীর। তবে শেষ রক্ষা হয়নি, পুলিশের জালে ধরা পড়ার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন তিনি।
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে রাজনগর উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের করিমপুর চা বাগান এলাকায় জেলা পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলামের উপস্থিতিতে এক বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিপুল সিকদারের নেতৃত্বে প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী চলে এই উদ্ধার অভিযান। এ সময় বাড়ির আঙিনার পাকা সিসি ঢালাই ভেঙে প্রায় ১০ ফুট গভীর মাটি খুঁড়ে বালির বস্তা দিয়ে চাপা দেওয়া অবস্থায় জায়োদা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত ৩ জুলাই অভিযুক্ত স্বামী আলমগীর রাজনগর থানায় হাজির হয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, তাঁর স্ত্রী জায়েদা বেগম পরিবারের কাউকে কিছু না জানিয়ে সুকৌশলে সৌদি আরব চলে গেছেন। জিডির পর ঘটনার নেপথ্যের রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামে পুলিশ। তদন্ত চলাকালে আলমগীরের কথাবার্তায় নানা অসংগতি ধরা পড়লে পুলিশের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। একপর্যায়ে পুলিশ তাঁকে আটক করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে তিনি ভেঙে পড়েন এবং নিজের স্ত্রীকে নিজ হাতে খুন করার কথা স্বীকার করেন।
একই সাথে মরদেহ যেখানে পুঁতে রেখেছিলেন, পুলিশের কাছে সেই স্থানটিও দেখিয়ে দেন।মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্ত স্বামীর দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতেই মূলত ঘরের আঙিনার পাকা ঢালাই ভেঙে নিখোঁজ গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য বর্তমানে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঠিক কী কারণে এবং কীভাবে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে, তার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশি তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। এই বর্বরোচিত ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি নিয়মিত হত্যা মামলা দায়েরের পাশাপাশি আটক আসামির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
Leave a comment