ওমর ফারুক, চট্টগ্রাম
কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের ডুলাহাজারা রেঞ্জের ডুলাহাজারা বিট কর্মকর্তা শাহরিয়ার আমিনের বিরুদ্ধে বনজ সম্পদ রক্ষার দায়িত্বে থেকে অবৈধ কাঠ পাচার ও বালু পরিবহনে সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ ও বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য নিয়ে অনুসন্ধান করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার বা ব্যাখ্যা জানতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ডুলাহাজারা বাজারের পূর্ব পাশের সড়ক ব্যবহার করে প্রতিদিন বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে কাঠবোঝাই কয়েকটি যানবাহন চলাচল করে। স্থানীয়দের দাবি, এসব যানবাহন মালুমঘাট হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। একাধিক সূত্রের ভাষ্য, প্রতিদিন তিন থেকে চারটি কাঠবোঝাই গাড়ি এ সড়ক ব্যবহার করে।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, কাঠবোঝাই প্রতিটি গাড়ি থেকে প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকা করে আদায় করা হয়। তাঁদের দাবি, বন বিভাগের স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তির মাধ্যমে এ অর্থ সংগ্রহ করা হয়। তবে এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া ডুলাহাজারা বিট কার্যালয়ের সামনের সড়ক দিয়ে নিয়মিত অবৈধভাবে বালুবাহী ট্রাক ও ডাম্পার চলাচলের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকাশ্যে এসব যানবাহন চলাচল করলেও কার্যকর কোনো অভিযান পরিচালনা করা হয় না।
অনুসন্ধানে আরও অভিযোগ পাওয়া গেছে, একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অবৈধ বালুবাহী যানবাহন থেকে মাসিক ভিত্তিতে অর্থ আদায় করা হয়। তবে এ অভিযোগও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে ডুলাহাজারা বিট কর্মকর্তা শাহরিয়ার আমিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মুহাম্মদ কামরুল হাসানের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তাঁরও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
Leave a comment