মো. সোহেল মিয়া, কিশোরগঞ্জ
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবারও দানের নতুন রেকর্ড হয়েছে। ছয় মাস পর ১৩টি দানবাক্স ও ট্রাঙ্ক খুলে গণনা শেষে পাওয়া গেছে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা, যা এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ।
শনিবার (২৭ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে টাকা গণনা শেষে এ হিসাব নিশ্চিত করা হয়।
এবার শুধু নগদ টাকাই নয়, আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালংকার ও রৌপ্য পাওয়া গেছে। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, শত ভরির বেশি স্বর্ণালংকার পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সোনা, রূপা ও হীরার অলংকার রয়েছে। এ ছাড়া দিনার, ইউরো, ডলারসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রা এবং মানতকারীদের লেখা হাজারো চিঠিও পাওয়া গেছে।
শনিবার সকাল ৭টায় পাগলা মসজিদের ১০টি দানবাক্স ও তিনটি ট্রাঙ্ক খোলা হয়। পরে লোহার সিন্দুক থেকে টাকা বের করে বড় বড় বস্তায় ভরা হয়। এবার মোট ৪৩ বস্তা টাকা পাওয়া যায়, যা বস্তার সংখ্যার দিক থেকেও সর্বোচ্চ।
পরে বস্তাগুলো মসজিদের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে টাকা গণনার কাজ শুরু হয়। এবার গণনার কাজে ৬৭১ জন অংশ নেন। পুরো কার্যক্রম তদারকি করেন ১৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। দীর্ঘ সময় ধরে গণনা শেষে রাত সাড়ে ৮টায় চূড়ান্ত হিসাব পাওয়া যায়।
এবারের দানের অর্থ যোগ হওয়ায় পাগলা মসজিদের ব্যাংক হিসাবে জমা অর্থের পরিমাণ ১৩০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এর আগে ব্যাংক হিসাবে জমা ছিল ১১৪ কোটি টাকা।
সবশেষ গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর দানবাক্স খোলা হয়েছিল। তখন পাওয়া গিয়েছিল ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা। সেই সময়ও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, সোনা, রূপা ও হীরার অলংকার পাওয়া যায়।
সকালে জেলা প্রশাসক ও মসজিদ কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিনের উপস্থিতিতে দানবাক্স খোলার কার্যক্রম শুরু হয়। এ সময় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদুল আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) নাজমুস সাকিব খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মারুফ, রূপালী ব্যাংকের এজিএম মোহাম্মদ আলী হারেছী, দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং মসজিদ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
টাকা গণনার সময় সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, পাগলা মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্সের পরিচালন ব্যয় মেটানোর পর অবশিষ্ট অর্থ ব্যাংকে জমা রাখা হয়। বর্তমানে সরাসরি দানের ১১৪ কোটি টাকা এবং অনলাইনে দানের ২৪ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮২ টাকা ব্যাংকে জমা রয়েছে। এ ছাড়া দান হিসেবে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রা ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে সংরক্ষিত আছে।
তিনি আরও বলেন, ব্যাংকে জমা অর্থের লভ্যাংশ থেকে জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় অনুদান দেওয়া হয়। পাশাপাশি অসহায় ও জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা সহায়তাও প্রদান করা হয়।
Leave a comment