বিশ্বকাপের ঠিক আগে পর্তুগাল দল যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছে। অন্য অনেক দল যখন প্রস্তুতি ম্যাচ ও অনুশীলন নিয়ে ব্যস্ত, তখনও নিজেদের প্রস্তুতি গুছিয়ে নিচ্ছিল রবার্তো মার্তিনেজের দল। তবে প্রস্তুতির সময় নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও দলটির সামর্থ্য নিয়ে সংশয় কম।
টানা ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া পর্তুগাল এবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অভিজ্ঞ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে একঝাঁক তরুণ ও প্রতিভাবান ফুটবলারের সমন্বয়ে গড়া দলটি ভারসাম্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
শক্তিশালী ফুলব্যাক জুটি
পর্তুগালের রক্ষণভাগের দুই প্রান্তে আছেন নুনো মেন্দেস ও জোয়াও কানসেলো। আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই ক্ষেত্রেই তাঁদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। বিকল্প হিসেবে দিয়োগো দালোত ও নেলসন সেমেদোও রয়েছেন। ফলে দুই উইং দিয়েই আক্রমণ গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে মার্তিনেজের হাতে।
উইংয়ে বৈচিত্র্য
পেদ্রো নেতো, রাফায়েল লিয়াও, ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও, জোয়াও ফেলিক্স ও ফ্রান্সিসকো ত্রিনকাও—উইংয়ে একাধিক বিকল্প রয়েছে পর্তুগালের। দ্রুত গতি, ড্রিবলিং ও গোল তৈরির সক্ষমতা তাঁদের অন্যতম শক্তি।
পিএসজি–সংযোগ
ফরাসি ক্লাব পিএসজির হয়ে একসঙ্গে খেলা ভিতিনিয়া, জোয়াও নেভেস, গনসালো রামোস ও নুনো মেন্দেস জাতীয় দলেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ক্লাব পর্যায়ের বোঝাপড়া আন্তর্জাতিক ফুটবলেও পর্তুগালকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।
মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রক
ভিতিনিয়া ও জোয়াও নেভেস বর্তমানে ইউরোপের অন্যতম কার্যকর মিডফিল্ড জুটি হিসেবে বিবেচিত। বলের নিয়ন্ত্রণ, পাসিং ও খেলার গতি নির্ধারণে তাঁদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের সঙ্গে ব্রুনো ফার্নান্দেজের সৃজনশীলতা যোগ হলে পর্তুগালের মাঝমাঠ আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
নির্ভরতার নাম দিয়োগো কস্তা
গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা গত কয়েক বছরে নিজেকে দলের অন্যতম ভরসা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাঁর পারফরম্যান্স পর্তুগালকে একাধিকবার বিপদ থেকে উদ্ধার করেছে। বিশেষ করে টাইব্রেকারে তাঁর দক্ষতা আলাদা করে নজর কাড়ে।
বহুমুখী ফুটবলারদের সুবিধা
পর্তুগাল দলে এমন অনেক খেলোয়াড় রয়েছেন, যাঁরা একাধিক পজিশনে খেলতে পারেন। বের্নার্দো সিলভা, জোয়াও ফেলিক্স কিংবা পেদ্রো নেতোকে বিভিন্ন ভূমিকায় ব্যবহার করা সম্ভব। এতে ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী কৌশল বদলানোর সুযোগ বাড়ে।
আক্রমণের সুরকার ব্রুনো
পর্তুগালের আক্রমণভাগের অন্যতম চালিকাশক্তি ব্রুনো ফার্নান্দেজ। গোলের সুযোগ তৈরি করা, মাঝমাঠ ও আক্রমণের মধ্যে সংযোগ গড়ে তোলা এবং দূরপাল্লার শটে গোল করার সক্ষমতা তাঁকে দলের অপরিহার্য সদস্যে পরিণত করেছে।
কোচ মার্তিনেজের পরীক্ষা
বেলজিয়ামের দায়িত্ব পালনের পর পর্তুগালের কোচ হয়েছেন রবার্তো মার্তিনেজ। তাঁর অধীনে দলটি ধারাবাহিকভাবে ভালো ফল করেছে। ২০২৫ নেশনস লিগের শিরোপাও আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। বিশ্বকাপে সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চান তিনি।
রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ?
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জন্য এটি সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপ। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে প্রায় সব বড় শিরোপা জিতলেও বিশ্বকাপ এখনো অধরা। অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব দিয়ে তিনি এখনো দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পর্তুগাল যদি শিরোপা জেতে, সেটি হবে রোনালদোর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় অর্জনগুলোর একটি।
অভিজ্ঞতা, তারুণ্য, কৌশলগত বৈচিত্র্য ও গভীর স্কোয়াড—সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপে পর্তুগালকে অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। মাঠের পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে, তারা প্রত্যাশার ভার কতটা সামলাতে পারে।
Leave a comment