মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের ক্রমবর্ধমান চাপ ও হুমকি মোকাবিলায় নিজের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি নাটকীয়ভাবে সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন। দেশের পারমাণবিক যুদ্ধ প্রতিরোধ ক্ষমতা ‘গুণগত ও পরিমাণগত’ উভয় দিক থেকে শক্তিশালী করতে আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) পারমাণবিক বোমার জ্বালানি উৎপাদনের জন্য একটি নতুন ও অত্যন্ত আধুনিক স্থাপনা উন্মোচন করেছে পিয়ংইইয়ং। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ (KCNA) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানিয়েছে, নতুন উন্মোচিত এই স্থাপনাটি সম্ভবত একটি উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র। সিউল ও ওয়াশিংটন যৌথভাবে উত্তর কোরিয়ার এই নতুন পারমাণবিক কার্যক্রমের ওপর নিবিড় নজরদারি রাখছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে বিশদ তথ্য প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকে। অন্যদিকে, নতুন এই পরমাণু কেন্দ্রটির সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক অবস্থান কিংবা কবে থেকে এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে—সে বিষয়ে কেসিএনএ-র প্রতিবেদনে কোনো স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত আলোকচিত্রে দেখা যায়, একটি বিশাল হলরুমে সারিবদ্ধভাবে অত্যাধুনিক ‘সেন্ট্রিফিউজ’ যন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির মূল উপাদান তথা ইউরেনিয়ামকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ করতে ব্যবহৃত হয়। কেন্দ্রটি পরিদর্শনের পর কিম জং উন ও তাঁর শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেন। কেসিএনএ কিমের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, ‘সবচেয়ে ভয়ংকর শত্রুদের (যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া) সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে দেশের পারমাণবিক সক্ষমতা দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানো হয়েছে।’ বৈঠকে উপস্থিত কর্মকর্তাদের টেবিলে একটি শঙ্কু আকৃতির ঝাপসা বস্তুর চিত্র দেখা গেছে, যা কোনো নতুন পারমাণবিক ওয়ারহেডের নিখুঁত নকশা হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি সম্প্রতি সতর্ক করেছিলেন যে, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে কার্যক্রমের ‘উল্লেখযোগ্য ও দ্রুত বৃদ্ধি’ লক্ষ করা গেছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে আরেকটি গোপন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র উন্মোচনের পর এটিই পিয়ংইইয়ংয়ের সবচেয়ে বড় পরমাণু শক্তির প্রদর্শন।
২০১৮ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী উত্তর কোরিয়ার কাছে ২০ থেকে ৬০টি পারমাণবিক অস্ত্র থাকলেও, বর্তমানে বিশেষজ্ঞদের ধারণা দেশটির অস্ত্রাগারে ১০০টিরও বেশি সক্রিয় পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে। ২০১৯ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কিম জং উনের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর থেকে পিয়ংইইয়ং ওয়াশিংটনের সব কূটনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের পারমাণবিক ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আধুনিকীকরণে একচেটিয়া মনোযোগ দিয়েছে, যা এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে চরম নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করেছে।
Leave a comment