ঢাকার পল্লবীতে পাশবিক নির্যাতন ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী শিশু রামিসা আক্তারের শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে রাষ্ট্র। পবিত্র ঈদুল আজহার দিনে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে রামিসার পরিবারকে গভীর সমবেদনা ও সান্ত্বনা জানিয়েছেন তাঁর রাজনৈতিক ও শিল্প বিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। পরিবারটির প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, “আমরা সবাই রামিসার আত্মীয় হিসেবে এই পরিবারের পাশে থাকব।”
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে ২০২৬ ঢাকার পল্লবী এলাকায় আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করে সোহেল রানা নামের এক ব্যক্তি। এই ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে ২০২৬) পবিত্র ঈদের দিনে রামিসার অসহায় ও শোকাতুর পরিবারটিকে সান্ত্বনা দিতে পল্লবীর বাসায় যান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
তিনি যখন রামিসার বাসায় পৌঁছান, তখন নিহত শিশুর বাবার বুকফাটা কান্না ও আকুল আর্তনাদে এক আবেগঘন ও শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এ সময় শোকস্তব্ধ পিতাকে সান্ত্বনা দিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, “আমি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আপনাদের খোঁজ নিতে এবং আপনাদের পাশে দাঁড়াতে এসেছি। এই জঘন্য অপরাধের কোনো ক্ষমা নেই। প্রধানমন্ত্রী নিজে আশ্বস্ত করেছেন যে, এই হত্যাকারী ও ধর্ষকের দ্রুততম সময়ে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সরকার সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।”
পরিবারের ভবিষ্যৎ ও সুরক্ষার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে রিজভী আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রামিসার বড় বোন রাইসার সম্পূর্ণ পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছেন। রাষ্ট্র এই পরিবারটিকে একা ছেড়ে দেবে না। আমরা সবাই রাইসার অভিভাবক ও আত্মীয় হিসেবে এই পরিবারের পাশে থাকব, ইনশাআল্লাহ।”
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার এই সফরের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন—বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মাহবুবুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক ড. ইকবালুর রহমান রোকনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। তাঁরা প্রত্যেকেই এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
Leave a comment