দীর্ঘ তিন মাস ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিরসনে যখন দুই দেশের মধ্যে নিবিড় যুদ্ধবিরতি আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই ইরানের ওপর নতুন করে বিধ্বংসী বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়ে গত তিন দিনের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ইরানি ভূখণ্ডে মার্কিন বোমাবর্ষণের ঘটনা ঘটল।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ইরানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত বন্দর নগরী বন্দর আব্বাসে এই নতুন বিমান হামলাটি পরিচালনা করা হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে এই অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেছে। সেন্টকম দাবি করেছে, বিমান হামলার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ ও মার্কিন সামরিক উপস্থিতির জন্য তাত্ক্ষণিক হুমকি সৃষ্টি করায় ৪টি ইরানি ড্রোনও আকাশেই ভূপাতিত করেছে তাদের বাহিনী। এর আগে গত মঙ্গলবারও দক্ষিণ ইরানের একাধিক সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছিল মার্কিন বিমান বাহিনী।
এই আকস্মিক সামরিক তৎপরতা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন উভয় পক্ষই তিন মাস ধরে চলা যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটাতে একটি টেকসই চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে টেবিলে বসেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আলোচনার টেবিলে তেহরানকে চাপে রাখতেই ওয়াশিংটন এই দ্বিমুখী কৌশল অবলম্বন করছে।
এদিকে বুধবার ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র মন্তব্য করেছেন। ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান বর্তমানে ‘প্রায় নিঃশেষিত ও ভেঙে পড়া অবস্থায়’ এসে যুদ্ধবিরতির আলোচনা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাঁর বর্তমান যুদ্ধ কৌশল বা মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না বা তা প্রভাবিত হবে না।
বৈঠকে ট্রাম্প আরও বলেন, “পরিস্থিতি কোন দিকে যায় তা আমরা দেখছি। হয়তো আমাদের আবারও সেখানে ফিরে গিয়ে এই যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ করতে হবে, অথবা হয়তো তার আর প্রয়োজন হবে না।” মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন আগ্রাসী বক্তব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তির ভবিষ্যৎকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
বন্দর আব্বাসে মার্কিন এই আগ্রাসনের পর পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন আন্তর্জাতিক জলসীমায় নতুন করে যুদ্ধক্ষেত্রের আবহ তৈরি হয়েছে।
Leave a comment