দেশে হামের প্রাদুর্ভাবে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। হামে মারা যাওয়া শিশুদের প্রত্যেক পরিবারকে কেন পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে ১০ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, সেটিও জানতে চেয়েছেন আদালত।
পাশাপাশি দেশে হাম ও জলাতঙ্ক টিকার প্রাপ্যতা, পর্যাপ্ততা ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে হলফনামা আকারে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠন ‘ল অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট’-এর পক্ষে গত দশই মে এই রিট আবেদনটি করা হয়। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো: রুহুল কুদ্দুস কাজল।
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬ সালের মার্চ থেকে শুরু হওয়া ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাবে দেশে এ পর্যন্ত ৫০০-র বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
অভিযোগ করা হয়েছে, ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহ ব্যবস্থা বাদ দিয়ে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি চালু করায় দেশে টিকার তীব্র সংকট তৈরি হয়। ইউনিসেফ তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমকে এ বিষয়ে বারবার সতর্ক করলেও তা উপেক্ষা করা হয়।
এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আইসিইউ ও পিআইসিইউ-এর অভাবে বহু শিশু চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছে।
Leave a comment