মোঃ আজিজুর রহমান গোয়াইনঘাট সিলেট প্রতিনিধি।সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ১৩ নং বিছনাকান্দি ইউনিয়নে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দুঃস্থদের ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে (সাবেক মন্ত্রী ইমরান আহমেদ নাতনী পরিচয় দাতা) মহিলা ইউপি সদস্য শ্রী মতি পদ্মা দেবী সিংহের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে উপজেলার হাদারপার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভিজিএফের চাল বিতরণে কালে চাল না পেয়ে তার বিরুদ্ধে সেচ্চাচারিতা অনিয়ম ও আত্মসাৎ এর অভিযোগ আনেন ২ ও নং ওয়ার্ডের অসহায় হতদরিদ্র সুবিধা বঞ্চিত অনেক নারী পুরুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শ্রী মতি পদ্মা দেবী ১,২,৩ ওয়ার্ডের সদস্য বর্তমান সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের সদস্য না থাকায় তদের ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডে অংশের ১১০ নাম এবং তার নিজের ৫৫ নাম সর্বমোট ১৬৫ জন অসহায় ও হতদরিদ্রের তালিকা করে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও তা করেননি। স্থানীয়দের অভিযোগ ওই মহিলা মেম্বার পুরো চাল বিতরণ করেনি।
মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় হাদারপার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গিয়ে দেখা যায়,ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হচ্ছে। তবে সুবিধাভোগীদের জন প্রতি ১০ কেজি করে মেপে দেওয়ার কথা থাকলে সেভাবে দেওয়া হচ্ছে না।বস্তায় বস্তায় মোটরসাইকেল যুগে নেওয়া হচ্ছে। প্রতি বস্তায় ৫ জন সুবিধাভোগীর চাল থাকলেও একজনেই বস্তা মোটরসাইকেলে করে নিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ এভাবে সরকারের দেওয়া অসহায় হতদরিদ্রদের চাল বিরতনে প্রকৃত সুবিধা পাওয়ার যোগ্য এ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
চাল না পেয়ে ফিরে আসা কয়েকজন নারী পুরুষ বলেন,শ্রী মতি পদ্মা দেবী সিংহের বাড়ির পাশের আশা প্রতি মহিলারা কেউ ১ বস্তা আবার কেউ বা ২ বস্তা চাউল নিয়েছে।তারা বলেন,দুই ওয়ার্ডের মেম্মার না থাকায় ওই মেম্মারদের দায়িত্বে থাকা ১১০ জনের নামের চাল মেম্মারনিকে দেওয়া হয় তালিকা করে বিতরণ করার জন্য। কিন্ত তিনি তা না করে তার বাড়ির পাশের লোকদের জন প্রতি ১ বস্তা দুই বস্তা করে দিয়েছে এবং তাদের মাধ্যমে ওই ইউপি সদস্যসের বাড়িতেও সরকারি অনেক চাল পাঠিয়েছেন।এর ফলে ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের বগাইয়া দক্ষিণ পাড়া, মধ্যে পাড়া, আসামপাড়া সহ অনেক মহল্লার প্রকৃত অসহায় হতদরিদ্র লোকজন পায়নি।
বগাইয়া দক্ষিণ পাড়া গ্রামের বিধবা ও আগুনে পোড়া ও বাক প্রতিবন্ধী নাছিমা আক্তার জানান,কয়েকজন মিলে তিন মাইল দূরে পায়ে হেটে খেয়া পার হয়ে হাদার পার বাজারে গিয়ে বিকাল পর্যন্ত বলেও মেম্মারনিকে বললেও তিনি চাল দেয়নি।অথচ তার বাড়ির পাশের অনেক মহিলা ১ বস্তা দুই বস্তা করে নৌকায় করে নিয়ে গেছে।না প্রকাশে অনিচ্ছুক সুবিধা বঞ্চিত ভুক্তভোগী আরেক নারী জানান,সরা দিন বসে থেকে চাল পেলাম না। কিন্তু শ্রী মতি পদ্মা দেবী বাড়ির পাশের প্রতি মহিলারা ১ বস্তা দুই বস্তা করে চাল নিয়েছেন। ওই সব মহিলাদের নেওয়া চাউলের একটি অংশ পদ্মা দেবী কে দিবেন বলেও জানান তিনি।
বিছনাকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসন বদরুল ইসলাম বলেন, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের সদস্য না থাকায় তাদের অংশটুকু সহ ওই মহিলা সদস্য কে দেওয়া হয়েছে। চাল বিতরণের আগে মিটিংয়ে আমি স্পষ্ট করে বলে দিয়েছি ওয়ার্ডের কোন মহলা দেন বাদ না পড়ে। আমি বিশেষ করে বলে দিয়েছি বগাইয়া দক্ষিণ, ঝারিখাল কান্দি হাওর অঞ্চল বাদ না পড়ে। তাকে আমি ফোন করেও বলেছি।
বিছনাকান্দি ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল বিতরণে দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসার ও উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা খছরুল আলম বলেন,আজকে দুপুরেই আমি চিঠি পেয়ছি যে আমি বিছনাকান্দি ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল বিতরণের ট্যাগ অফিসার আমি। শুনেছি আজকে চাল বিতরণ হয়েছে এবং সেগুলো আমার অনুপস্থিতিতে ওই চাল বিতরণ করা হয়েছে।
গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার রতন কুমার অধিকারী বলেন, বিষয়টি আপনাদের মধ্যেমে অবগত হয়েছি। তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a comment