মালদ্বীপের ভাভু আতোল এলাকায় সমুদ্রের নিচে থাকা একটি গুহায় আটকে মৃত্যু হওয়া চার ইতালীয় পর্যটকের মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। প্রায় ১৯৭ ফুট গভীর ওই গুহায় স্কুবা ডাইভিংয়ের সময় তারা আটকা পড়েন। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে পাঁচ পর্যটক ও এক উদ্ধারকারী ডুবুরিসহ মোট ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার ফিনল্যান্ড ও মালদ্বীপের অত্যন্ত প্রশিক্ষিত ডুবুরিরা মরদেহগুলো শনাক্ত করেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার পাঁচ ইতালীয় পর্যটক স্কুবা ডাইভিং করতে গিয়েছিলেন। দুর্ঘটনার পর একজনের মরদেহ দ্রুত উদ্ধার করা হলেও বাকি চারজন নিখোঁজ ছিলেন।নিখোঁজদের খুঁজতে গিয়ে মালদ্বীপের সেনাবাহিনীর এক ডুবুরি গত শনিবার প্রাণ হারান। পরে ঝুঁকির কারণে উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
মালদ্বীপ সরকারের মুখপাত্র মোহাম্মদ হোসেনই শরীফ জানান, মরদেহ উদ্ধারে নতুন অভিযান চালানো হবে। মঙ্গলবার দুটি মরদেহ এবং বুধবার বাকি দুটি মরদেহ উদ্ধার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গুহার প্রবেশদ্বার থেকে সবচেয়ে দূরের তৃতীয় অংশে মরদেহগুলো শনাক্ত করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রথমে উদ্ধার হওয়া পর্যটকের মরদেহ গুহার প্রবেশমুখের কাছাকাছি পাওয়া গিয়েছিল।
নিহতদের মধ্যে চারজন ছিলেন জেনোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দলভুক্ত—প্রফেসর মনিকা মন্তেফেলকন, তাঁর মেয়ে জর্জিয়া সোম্মাকাল এবং গবেষক মুরিয়েল ওদ্দেনিনো ও ফেদ্রিকো গুয়ালতেইরি। অপরজন ছিলেন বোট অপারেশন ম্যানেজার ও ডাইভিং প্রশিক্ষক জিয়ানলুকা বেনেদেত্তি।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে তারা গুহার কাছাকাছি পানির নিচে প্রবেশ করেন, কিন্তু পরে আর কেউ ওপরে ফিরে আসেননি। দুর্ঘটনার সময় সমুদ্র উত্তাল ছিল এবং সেখানে হলুদ সতর্কতা জারি ছিল।
মালদ্বীপ সরকার জানিয়েছে, প্রবাল প্রাচীর ও গভীর সমুদ্রে ডাইভিং প্রশিক্ষণের জন্য তাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে সমুদ্রগুহার ভেতরে প্রবেশের বিষয়ে তারা কোনো অনুমতি নেননি এবং কর্তৃপক্ষকেও এ বিষয়ে জানানো হয়নি।
Leave a comment