ব্রিটেনের ডানপন্থী রাজনৈতিক দল রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ আবারও নতুন বিতর্কের মুখে পড়েছেন। এবার তাঁর বিরুদ্ধে প্রশ্ন উঠেছে সারে এলাকায় প্রায় ১৪ লাখ পাউন্ড মূল্যের একটি বাড়ি কেনার অর্থের উৎস নিয়ে।
গত সপ্তাহে রিফর্ম ইউকে দাবি করেছিল, ২০২৪ সালে কোনো ব্যাংকঋণ ছাড়াই বাড়িটি কিনতে নাইজেল ফারাজ ব্যবহার করেছিলেন জনপ্রিয় টেলিভিশন রিয়েলিটি অনুষ্ঠান ‘আই’ম আ সেলিব্রিটি’-তে অংশ নেওয়ার পারিশ্রমিক। তবে ২০২৫ সালে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ওই অনুষ্ঠান থেকে পাওয়া অর্থ তাঁর প্রতিষ্ঠান ‘থর্ন ইন দ্য সাইড লিমিটেড’-এর হিসাবে জমা হয়েছিল।
কোম্পানির হিসাবপত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাড়ি কেনার পরও সেই অর্থ কোম্পানির হিসাবে রয়ে গেছে বলে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। ফলে বাড়ি কেনার প্রকৃত অর্থ কোথা থেকে এসেছে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিবিসির হাতে আসা ভূমি নিবন্ধন সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১০ মে কোনো ব্যাংকঋণ ছাড়াই নগদ অর্থে বাড়িটির মূল্য পরিশোধ করা হয়। তবে ফারাজের দল জোর দিয়ে বলেছে, ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসায়ী ক্রিস্টোফার হারবর্নের কাছ থেকে পাওয়া ৫০ লাখ পাউন্ডের উপহার এই বাড়ি কেনায় ব্যবহার করা হয়নি।
ফারাজের এক মুখপাত্র জানান, “বাড়ি কেনার অর্থসংক্রান্ত মানি লন্ডারিং যাচাই ২০২৪ সালের মার্চেই সম্পন্ন হয়েছিল, যা উপহার পাওয়ার আগের ঘটনা। এছাড়া নাইজেল ফারাজের আয়ের একাধিক উৎস রয়েছে।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের এপ্রিলে থাইল্যান্ডভিত্তিক ব্রিটিশ ব্যবসায়ী হারবর্ন ফারাজকে ৫০ লাখ পাউন্ড উপহার দেন। পরে তিনি জানান, ব্রেক্সিট আন্দোলনে ফারাজের দীর্ঘদিনের ভূমিকার প্রতি সম্মান জানিয়েই এই অর্থ দেওয়া হয়েছিল।
তবে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনা বাড়ছে। লেবার পার্টির চেয়ার আনা টারলি অভিযোগ করেন, ফারাজ জনসাধারণের কাছে প্রকৃত তথ্য গোপন করছেন। অন্যদিকে কনজারভেটিভ নেতা অ্যালেক্স বার্গহার্ট বলেন, “এত বিপুল পরিমাণ অর্থের ব্যাখ্যা বারবার বদলানো হচ্ছে, ফলে স্বাভাবিকভাবেই জনমনে প্রশ্ন উঠবে।”
ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচনের আগের ১২ মাসে পাওয়া অনুদান নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ঘোষণা করতে হয়। কিন্তু ফারাজের স্বার্থ-ঘোষণায় এই অর্থের উল্লেখ ছিল না। পরে দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
এদিকে, পার্লামেন্টের মানদণ্ড কমিশনার ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছেন—ফারাজ সংসদীয় নিয়ম ভঙ্গ করেছেন কি না তা খতিয়ে দেখতে। যদিও নাইজেল ফারাজ দাবি করেছেন, তিনি কোনো ধরনের উদ্বেগে নেই এবং পুরো বিষয়টি সম্পূর্ণ বৈধ।
Leave a comment