ভারতের দুটি পৃথক রাজ্যে সোমবার (১৮ মে) ঘটে যাওয়া ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় চালকসহ অন্তত ২৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রাজ্য স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের পালঘর জেলায় মুম্বাই-আহমেদাবাদ মহাসড়কে, যেখানে ১৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে, উত্তর প্রদেশের লাখিমপুর খেরি জেলায় একটি ট্রাক ও যাত্রীবাহী ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে আরও ১০ জন নিহত হয়েছেন।
মহারাষ্ট্রের পালঘর জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে মুম্বাই-আহমেদাবাদ মহাসড়কে একটি কনটেইনার ট্রাক, বরযাত্রী বহনকারী একটি টেম্পো এবং একটি মোটরসাইকেলের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ ঘটে। যাত্রীরা দাহানুর বাপুগাঁও থেকে ধানিভারিতে একটি বাগদান অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রায় এক কিলোমিটার ঘুরপথ এড়াতে ৪০ জনেরও বেশি যাত্রী নিয়ে টেম্পোটি মহাসড়কে ভুল পাশ (রং সাইড) দিয়ে চলছিল। এ সময় গুজরাট থেকে মুম্বাইমুখী একটি দ্রুতগামী কনটেইনার ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে টেম্পোটির বাম পাশে সজোরে ধাক্কা দেয় এবং উল্টে গিয়ে টেম্পোটির ওপর পড়ে। এতে যাত্রীরা ভেতরেই আটকা পড়েন।
উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত হতাহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে প্রেরণ করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় কাসা সাব-ডিস্ট্রিক্ট হাসপাতালে ১১ জন এবং দাহানুর বেদান্ত হাসপাতালে আরও ২ জন মারা যান। এই ঘটনায় আরও ২৫ জনেরও বেশি যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। পালঘরের পুলিশ সুপার যতীশ দেশমুখ জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে টেম্পো চালকের ভুল লেনে গাড়ি চালানোর সিদ্ধান্তকেই দুর্ঘটনার মূল কারণ মনে করা হচ্ছে। দুর্ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসন একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাডনবিশ এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের পরিবারকে ৫ লাখ রুপি করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
এদিকে একই দিনে উত্তর প্রদেশের লাখিমপুর খেরি জেলার শিসাইয়া-লাখিমপুর জাতীয় সড়কের উনচগাঁও ও ভারেহতা গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে অন্য একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানে লাখিমপুর থেকে শিসাইয়ার দিকে যাওয়া একটি যাত্রীবাহী ভ্যানের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ধৌরাহরার সার্কেল অফিসার (সিও) শমশের বাহাদুর সিং এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অঞ্জনি কুমার সিং জানান, সংঘর্ষটি এতটাই তীব্র ছিল যে ঘটনাস্থলেই ভ্যানের চালকসহ ৯ জন প্রাণ হারান। পরে জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন মারা যান। এই নিয়ে দুটি পৃথক দুর্ঘটনায় ভারতে একদিনেই ২৩ জনের প্রাণহানি ঘটল, যা দেশের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আবারও বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
Leave a comment