মার্কিন রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে এক নজিরবিহীন সমঝোতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে দায়ের করা একাধিক আইনি পদক্ষেপ প্রত্যাহারের অংশ হিসেবে একটি বিশাল অঙ্কের আর্থিক তহবিল গঠনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন গণমাধ্যম এবিসি নিউজ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইন্টারনাল রেভিনিউ সার্ভিসের (আইআরএস) বিরুদ্ধে করা তার ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের হাই-প্রোফাইল মামলাটি প্রত্যাহার করে নিতে পারেন। তবে এর বিনিময়ে বাইডেন প্রশাসনের সময় রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা ও অন্যায়ভাবে লক্ষ্যবস্তু হওয়ার দাবিদার ট্রাম্প-মিত্রদের ক্ষতিপূরণ দিতে ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত এই সমঝোতার আওতায় করদাতাদের অর্থ থেকে গঠিত প্রায় ১.৭ বিলিয়ন ডলারের এই বিশাল তহবিল বিতরণের পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে একটি বিশেষ কমিশনের হাতে। এই কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নির্ধারণ করবে কারা এই অর্থ পাওয়ার যোগ্য। মূলত, বাইডেন প্রশাসন আইনি ব্যবস্থাকে ‘অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার’ (ওয়েপনাইজেশন অব জাস্টিস) করায় যারা আর্থিকভাবে, মানসিকভাবে বা সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করবেন, তাদের দাবি নিষ্পত্তির জন্যই এই অর্থ ব্যয় করা হবে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই ক্ষতিপূরণ তহবিলের সুবিধাভোগীদের তালিকায় ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল হিল হামলায় অভিযুক্ত প্রায় ১,৬০০ জন ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। পাশাপাশি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাও এই তহবিল থেকে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারে। সমালোচকদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ট্রাম্প তার অনুগত কর্মীদের আইনি ও আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার পথ প্রশস্ত করছেন।
আইনি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সমঝোতা মার্কিন বিচার বিভাগ ও প্রশাসনিক ইতিহাসে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে যাচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই জটিল ও সংবেদনশীল নিষ্পত্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে করদাতাদের অর্থ এভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে ইতিমধ্যেই ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
Leave a comment