পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের সেহাংগল গ্রামে একটি কমিউনিটি ক্লিনিকের জমি দখল করে সুপারি ও চাম্বল গাছ লাগানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মো. স্বপন খান ইউনিয়ন জামায়াতের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সহযোগী সদস্য বলে জানা গেছে।
সোমবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রত্যন্ত এলাকার ইটসলিং সড়কের পাশে অবস্থিত সেহাংগল কমিউনিটি ক্লিনিক ঘিরে শতাধিক সুপারি ও চাম্বল গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। এছাড়া ক্লিনিকের পাশ থেকে কয়েকটি মূল্যবান মেহগনি গাছ কেটে নেওয়ার আলামতও পাওয়া গেছে।
কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেল্থ কেয়ার প্রোভাইডার শিল্পী রানী দাস জানান, এসব গাছ স্বপন খান লাগিয়েছেন। তাঁকে একাধিকবার নিষেধ করা হলেও তিনি তা শোনেননি। এর আগেও ক্লিনিকসংলগ্ন কয়েকটি মেহগনি গাছ কেটে নেওয়া হয়েছিল এবং তখনও বাধা দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকের নামে প্রায় পাঁচ শতক জমি দান করা হয়েছে এবং ভূমিদাতাদের তালিকায় স্বপন খান বা তাঁর পরিবারের কারও নাম নেই। ভয়ভীতির কারণে এতদিন বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বপন খান বলেন, জমিটি বর্তমানে তাঁদের না হলেও পূর্বপুরুষদের ছিল। কেন গাছ লাগানো হয়েছে, তা সাংবাদিকদের জানার অধিকার নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে মেহগনি গাছ কাটার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
সমুদয়কাঠি ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মো. আবু হানিফ বলেন, স্বপন খান নির্বাচনকালীন সময়ে সহযোগী সদস্য ছিলেন, তবে বর্তমানে তাঁর নাম কাগজে-কলমে নেই। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তা নিন্দনীয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ বিষয়ে নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ক্লিনিকের জমি দখলের বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। সরেজমিনে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a comment