অকালপ্রয়াত জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর, চিত্রনাট্যকার ও তরুণ অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আজ সোমবার (১৮ মে) সকালে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার আবদুল্লাহপুর গ্রামে অবস্থিত তার নানির প্রিয় বাগানবাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। এর আগে, সেখানে তাঁর জানাজায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন।
গতকাল রোববার রাজধানী ঢাকায় কারিনার শেষ বিদায়ের সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তাঁর মরদেহ রাখা হলে সেখানে সংস্কৃতি অঙ্গন, সহকর্মী এবং সাধারণ ভক্তদের ঢল নামে। সর্বস্তরের মানুষের অশ্রুসিক্ত শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রাতেই কারিনার মরদেহ মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
কারিনা কায়সার ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক কিংবদন্তি তারকা ডিফেন্ডার কায়সার হামিদ এবং লোপা কায়সার দম্পতির কন্যা। মূলত ডিজিটাল মাধ্যমে বৈচিত্র্যময় কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেলেও, সাম্প্রতিক সময়ে কারিনা নিজেকে অভিনয়ের আঙিনায় দারুণভাবে মেলে ধরেছিলেন। অভিনয়ের পাশাপাশি একজন দক্ষ চিত্রনাট্যকার হিসেবেও তাঁর সুখ্যাতি ছিল। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘চরকি’-তে মুক্তি পাওয়া সাড়াজাগানো ওয়েব ফিল্ম ‘ইন্টার্নশিপ’ এবং সবশেষ ‘৩৬-২৪-৩৬’ প্রজেক্টে তাঁর কাজ ও সাবলীল অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিল।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, লিভার-সংক্রান্ত তীব্র জটিলতায় ভুগছিলেন কারিনা। বেশ কিছুদিন ধরে তাঁর শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। দেশীয় চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার রাতে তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ভারতের চেন্নাইয়ের ভেলোর সিএমসি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর লিভার প্রতিস্থাপনের (লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট) সব প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছিলেন চিকিৎসকেরা। কিন্তু জীবনযুদ্ধের সেই লড়াইয়ে জয়ী হতে পারেননি তিনি। আকস্মিকভাবে তাঁর রক্তচাপ (ব্লাড প্রেসার) আশঙ্কাজনক স্তরে নেমে গেলে চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে গত ১৫ মে চেন্নাইয়ের হাসপাতালেই শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই তরুণ প্রতিভা।
Leave a comment