আগামী ৫ আগস্টের আগেই সর্বসাধারণের পরিদর্শনের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে ঐতিহাসিক ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’। মঙ্গলবার (১২ মে) নির্মাণাধীন জাদুঘরটি পরিদর্শন শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম জানান, জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহ বা ১লা আগস্টে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই জাদুঘরটি উদ্বোধন করবেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনের পতন ও ছাত্র-জনতার অদম্য সংগ্রামের সাক্ষী হিসেবে গণভবনকে এই জাদুঘরে রূপান্তর করা হচ্ছে।
জাদুঘর পরিদর্শন শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “শেখ হাসিনার শাসনামলের সব অপকর্ম ও নিপীড়নের রেকর্ড এই জাদুঘরে সংরক্ষিত থাকবে। এই জাদুঘর প্রমাণ করবে যে, গণতন্ত্রের জন্য এ দেশের মানুষ হাসিমুখে জীবন দিতে পারে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, বিগত ১৬ বছরের পাতানো নির্বাচন, নৈরাজ্য ও হত্যাকাণ্ডের বিবরণ অত্যন্ত নিপুণভাবে এই স্মৃতি জাদুঘরে তুলে ধরা হয়েছে, যা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে মানুষের সংগ্রামের দলিল হিসেবে টিকে থাকবে।
জাদুঘর পরিদর্শনকালে স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জাদুঘরের ‘লং ওয়াক টু ডেমোক্রেসি রোডে’ ১৯৭১ থেকে ১৯৯১ সালের বিভিন্ন ঐতিহাসিক পর্যায় পর্যবেক্ষণ করেন। জাদুঘরে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পেয়েছে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মৃতি।
তাঁরা পরিদর্শনকালে শহীদ আবরার ফাহাদের স্মৃতি কর্নার, ‘আয়নাঘর’-এর মিনিয়েচার এবং জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ আনাসের চিঠি দেখেন। বিশেষ করে শহীদ জাহিদুজ্জামান তানভীনের নিজ হাতে বানানো সংসদ ভবনের মিনিয়েচার এবং সৌদিপ্রবাসী শহীদ আবু ইসহাকের রক্তে ভেজা জামা দেখে উপস্থিত মন্ত্রী ও স্পিকার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানান, অন্তর্বর্তী সরকার গণভবনকে জাদুঘরে রূপান্তরের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, বর্তমান নির্বাচিত সরকার সেই প্রকল্পটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে শেষ করছে। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল এই জাদুঘরকে ‘ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তির প্রতিবিম্ব’ হিসেবে অভিহিত করেন।
Leave a comment