যে বয়সে হাতে রঙিন পাঠ্যবই আর খেলার সরঞ্জাম থাকার কথা ছিল, সেই বয়সে জীবন ও জীবিকার কঠিন বাস্তবতায় রিকশাভ্যানের হ্যান্ডেল ধরতে হয়েছে ১০ বছরের শিশু লামিয়াকে। বরিশালের উজিরপুর উপজেলার এই চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীর জীবন এখন প্রতিদিনের খাদ্যের সংস্থান আর অসুস্থ বাবার সেবার পরিধিতে বন্দি।
প্রতিদিন ফজরের আজানের পরপরই সে তার পুরনো ভ্যানটি নিয়ে বেরিয়ে পড়ে যাত্রীর খোঁজে। উপজেলার বড়াকোঠা ইউনিয়নের গিয়া গাভা গ্রামের বাসিন্দা লামিয়ার মা মারা গেছেন প্রায় দুই বছর আগে। তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী। সংসারে উপার্জনের মতো কেউ না থাকায় পেটের দায়ে এই কিশোরীকেই নামতে হয়েছে সড়কে।
গত মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে নতুনহাট বাজারের সামনে তীব্র দাবদাহের মধ্যে যাত্রীর অপেক্ষায় বসে থাকতে দেখা যায় ছোট্ট লামিয়াকে। ক্লান্ত চেহারায় সে জানায়, “পেটের দায়ে ভ্যান নিয়ে বের হয়েছি। পেট তো আর রোদ-গরম বোঝে না।” লামিয়ার মতে, সারাদিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে তার আয় হয় মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। এই সামান্য উপার্জনে ডাল-ভাত জুটলেও মাংস খাওয়া তাদের কাছে এখন এক অলীক কল্পনা।
লামিয়া স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। ভ্যান চালিয়ে যা আয় হয়, তা দিয়ে কোনোমতে অসুস্থ বাবার ওষুধ ও খাদ্যের সংস্থান হলেও তার পড়াশোনা প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তার এই আত্মনির্ভরশীল হওয়ার লড়াই নজর কেড়েছে সবার।
লামিয়ার এই অদম্য সংগ্রামের সংবাদটি নজরে আসার পর উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছেন । তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই সংগ্রামী শিশুর পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
ইউএনও জানান, “চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী লামিয়ার পড়াশোনার সমস্ত খরচ এখন থেকে আমি বহন করব। এছাড়া সরকারি বিভিন্ন খাত থেকে তাকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা ও সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনা হবে।” প্রশাসনের এই উদ্যোগের ফলে লামিয়ার জীবন সংগ্রামে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Leave a comment