Home আন্তর্জাতিক খুব দ্রুতই ইরান যুদ্ধ শেষ হবে: ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক

খুব দ্রুতই ইরান যুদ্ধ শেষ হবে: ট্রাম্প

Share
Share

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা ও ইরান-মার্কিন স্নায়ুযুদ্ধের আবহে এক ইতিবাচক এবং শক্তিশালী বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তেহরানের সঙ্গে চলমান অচলাবস্থা ও হরমুজ প্রণালির উত্তেজনা খুব দ্রুতই শেষ হতে যাচ্ছে। ট্রাম্পের দাবি, তাঁর প্রশাসনের গৃহীত কঠোর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত পদক্ষেপগুলো ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসতে বাধ্য করবে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি সমর্থকদের সঙ্গে এক ফোনালাপে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চলমান সংকটের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা রোধ করা তাঁর প্রশাসনের অগ্রাধিকার। ট্রাম্প বলেন, “আপনারা যখন বর্তমান ঘটনাপ্রবাহ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন, তখন বুঝতে পারবেন আমরা কেন এই কঠোর অবস্থানে রয়েছি। আমরা কোনোভাবেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্রে পরিণত হতে দিতে পারি না। এটি বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি।”

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন হরমুজ প্রণালি ঘিরে সামরিক উত্তেজনা তুঙ্গে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি সরবরাহ পথে মার্কিন নৌ-অবরোধ এবং জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। তবে ট্রাম্প আত্মবিশ্বাসী যে, এই ‘সর্বোচ্চ চাপ’ (Maximum Pressure) প্রয়োগের নীতি শেষ পর্যন্ত একটি বড় ধরনের সমঝোতা বা চুক্তির পথ প্রশস্ত করবে। তিনি মনে করেন, অধিকাংশ সচেতন মানুষ এবং বিশ্বনেতারা বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করছেন এবং মার্কিন অবস্থানকে সমর্থন দিচ্ছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং তেহরানের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টির একটি কৌশলও হতে পারে। গত কয়েক মাস ধরে পারস্য উপসাগরে একের পর এক পাল্টাপাল্টি সামরিক মহড়া এবং ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনায় বিশ্ব অর্থনীতি, বিশেষ করে তেলের বাজারে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। ট্রাম্পের এই ইতিবাচক ইঙ্গিত বিশ্ব বাজার এবং কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।

উল্লেখ্য, আল-জাজিরা ও রয়টার্সের সংবাদে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউস এখন একটি সমন্বিত চুক্তির দিকে এগোচ্ছে যা কেবল পারমাণবিক কর্মসূচি নয়, বরং ইরানের ব্যালেস্টিক মিসাইল এবং আঞ্চলিক প্রভাবকেও সীমাবদ্ধ করবে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশ্বাস, অর্থনৈতিক অবরোধের ফলে ইরান বর্তমানে যে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি, তা তাদের নমনীয় হতে বাধ্য করবে। খুব দ্রুতই একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক নাটকীয়তা বা দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার সম্ভাবনা দেখছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এখন দেখার বিষয়, ওয়াশিংটনের এই কঠোর অবস্থান এবং ‘দ্রুত সমাধানের’ প্রত্যাশায় তেহরান কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়। তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don't Miss

আরব আমিরাতকে ‘গুঁড়িয়ে’ দেওয়ার পরিকল্পনা ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে দ্যা ওয়াল্ড স্ট্রিট জার্নাল এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলার...

রিজওয়ানা হাসানকে নিয়ে আনিস আলমগীরের মন্তব্য, তদন্তের দাবি

সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান-কে ‘মবের জননী’ বলে মন্তব্য করেছেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর। সম্প্রতি ইউটিউব চ্যানেল ‘কথা’র একটি টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি এ...

Related Articles

লন্ডনে বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীকে সমকামী সাজাতে সহায়তাকারী দুই প্রতারক গ্রেপ্তার

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির একটি গোপন অনুসন্ধানের ভিত্তিতে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ...

শুভেন্দু অধিকারীর একান্ত ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে হত্যা

পশ্চিমবঙ্গের মধ্যমগ্রামে রাস্তার পাশে গাড়ি থামিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর একান্ত ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ...

ইসরাইলকে পাশ কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সম্ভাব্য চুক্তি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য একটি চুক্তি নিয়ে আগে থেকে কোনো ধারণা...

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধে কী রয়েছে চূড়ান্ত সমঝোতা স্মারকে?

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ শেষের দিকে দ্রুতই এগিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।...