ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির একটি গোপন অনুসন্ধানের ভিত্তিতে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা কিছু আশ্রয়প্রার্থীকে দেশে থাকার সুযোগ পেতে সমকামী পরিচয় ভান করার পরামর্শ দিতেন।
পূর্ব লন্ডনে পরিচালিত সমন্বিত অভিযানে এই গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ বিভাগের অপরাধ ও আর্থিক তদন্ত শাখা।
গত মাসে বিবিসি নিউজের এক অনুসন্ধানে প্রকাশ পায়, যেসব অভিবাসীর ভিসার মেয়াদ শেষ হতে চলেছে, তাদেরকে কিভাবে ভুয়া প্রমাণ তৈরি করতে হবে সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। এসব প্রমাণের মধ্যে ছিল সমর্থনমূলক চিঠি ও ছবি, যা আশ্রয়ের আবেদনকে শক্তিশালী করতে ব্যবহার করা হয়।
গোপনে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, সমকামী আশ্রয়প্রার্থীদের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অনেকেই প্রকৃতপক্ষে সমকামী নন বলে একজন আন্ডারকভার প্রতিবেদককে জানান।
এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তদন্তের ঘোষণা দেয়।
একটি সূত্র জানায়, চল্লিশোর্ধ্ব এক নারীকে অবৈধভাবে অভিবাসন সংক্রান্ত সেবা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া বিশের কোঠার এক যুবককে প্রতারণার অভিযোগে আটক করা হয়েছে।
অভিবাসন বিষয়ক মন্ত্রী মাইক ট্যাপ অভিযানের একটি অংশে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, এ ধরনের পরামর্শ প্রকৃত আশ্রয়প্রার্থীদের দাবি ক্ষতিগ্রস্ত করে।
তিনি আরও বলেন, “যদি আইনজীবী বা তথাকথিত আইনজীবী এবং পরামর্শদাতারা এ ধরনের প্রতারণামূলক পরামর্শ দিয়ে থাকেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আজকের অভিযানে তা স্পষ্ট হয়েছে।”
তিনি জানান, “আমাদের আশ্রয়ব্যবস্থা তাদের জন্য, যারা সত্যিই নির্যাতন ও যুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসে। তবে যারা এই ব্যবস্থার অপব্যবহার করবে, তাদের গ্রহণ করা হবে না।”
বিরোধী রক্ষণশীল দলের ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস ফিলিপ বলেন, কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করলেই মূল সমস্যার সমাধান হবে না।
তিনি বলেন, “অবৈধভাবে আগতদের আশ্রয়ের আবেদন নিষিদ্ধ করতে হবে এবং দ্রুত তাদের ফেরত পাঠাতে হবে।”
অন্যদিকে উদারপন্থী দলের অভিবাসনবিষয়ক মুখপাত্র উইল ফস্টার বলেন, “আমাদের এমন একটি আশ্রয়ব্যবস্থা প্রয়োজন যা ন্যায়সঙ্গত, নিয়ন্ত্রিত ও কার্যকর।”
গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কি বলেন, সরকারের নীতিতে অসঙ্গতি থাকার কারণেই এ ধরনের অসাধু ব্যবসা গড়ে উঠছে।
এদিকে রিফর্ম দলের স্বরাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র জিয়া ইউসুফ বলেন, “মিথ্যা আশ্রয় দাবিতে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকার দেরি করেছে। অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের দ্রুত বহিষ্কার করতে হবে।”
Leave a comment