রাজধানীর আফতাবনগরে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর নিখোঁজ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র মাহিরের অর্ধগলিত লাশ হবিগঞ্জের মাধবপুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজের চার দিন পর মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক সংলগ্ন একটি ঝোপ থেকে তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত মাহির রাজধানীর উত্তরখানের বাসিন্দা আব্দুল আউয়ালের ছেলে এবং ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উত্তরা শাখার শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ এপ্রিল রাতে বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর ফেরেননি মাহির। পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। তদন্তের এক পর্যায়ে পুলিশ মৃদুল সরকার (২০) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করে। মৃদুলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাড্ডা ও মাধবপুর থানা-পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে মাধবপুর উপজেলার আনন্দউড়া ইউনিয়নের মহাসড়কের পাশ থেকে মাহিরের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মাহিরের বড় ভাই আরিফ হোসেন লাশটি শনাক্ত করেন।
গ্রেফতারকৃত মৃদুল সরকারকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে পুলিশ জানায়, নিখোঁজের দিন সন্ধ্যায় মাহিরকে কৌশলে রাজধানীর আফতাবনগরের একটি বাসায় ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে শারীরিক নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়। অপরাধ ঢাকতে ১ মে মরদেহটি একটি গাড়িতে করে নরসিংদী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে হবিগঞ্জের নির্জন স্থানে ফেলে আসা হয়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ব্যক্তিগত শত্রুতা ও পরকীয়া সংক্রান্ত সম্পর্কের জেরে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
এদিকে, মাহিরের নিখোঁজ হওয়ার পর গত রবিবার (৩ মে) একটি সিসিটিভির ফুটেজ ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছিল। ফুটেজে আফতাবনগরের একটি বাসা থেকে মাহিরের নিথর দেহ বের করে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। এরপরই মাহিরের সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হন।
মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা সংবাদমাধ্যমকে জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করার পর ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বাড্ডা থানা-পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।
Leave a comment