ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায় এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে নিজের বড় মেয়ের জন্য পছন্দ করা পাত্রের সঙ্গে পালিয়ে গেছেন এক গৃহবধূ। মঙ্গলবার উপজেলার চর-ত্রিবেণী গ্রামে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৮ বছর আগে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার রিমি খাতুনের সঙ্গে শৈলকূপার চর-ত্রিবেণী গ্রামের বাসিন্দা গাড়িচালক রাশেদ আলীর বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের তিন সন্তান রয়েছে। জীবিকার প্রয়োজনে রাশেদ আলীকে প্রায়ই বাড়ির বাইরে থাকতে হতো। এই সুযোগে প্রায় এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মামুন হোসেন (২৪) নামে এক যুবকের সঙ্গে রিমির পরিচয় হয়।
পরিচয়ের একপর্যায়ে মামুন নিজেকে সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে রিমির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে রিমি তাঁর বড় মেয়ের জন্য মামুনকে পাত্র হিসেবে পছন্দ করেন এবং বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। তবে হবু জামাতা ও মায়ের মধ্যে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা দেখে মেয়েটি শুরু থেকেই এই বিয়েতে আপত্তি জানায়।
মেয়ের আপত্তি উপেক্ষা করেই রিমি খাতুন বিয়ের আয়োজন এগিয়ে নিতে থাকেন। কিন্তু মঙ্গলবার হঠাৎ করেই সবাইকে বিস্মিত করে দিয়ে নিজের সংসার, স্বামী ও তিন সন্তানকে রেখে ওই যুবকের সঙ্গে পালিয়ে যান তিনি।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী স্বামী রাশেদ আলী শৈলকূপা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। শৈলকূপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং পলাতকদের সন্ধানে পুলিশ কাজ করছে।
এদিকে এমন ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের একটি চরম উদাহরণ এটি। ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট পরিবারের সামাজিক অবস্থান ও মর্যাদায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে বলেও তারা মন্তব্য করেন।
Leave a comment