স্যাটেলাইট চিত্রে ইসফাহান নিউক্লিয়ার টেকনোলজি সেন্টার-এ মার্কিন বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর দৃশ্য দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা আইএইএ জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া প্রায় ‘অস্ত্র তৈরির যোগ্য’ ইউরেনিয়ামের মজুত ইরান চাইলে এখনো উদ্ধার করতে পারে।
আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসি ব্লুমবার্গ টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “তারা যদি সেখানে যেতে চায়, তবে ওই মজুত তাদের নাগালের মধ্যেই রয়েছে।”
তিনি জানান, গত ১০ মাস ধরে আইএইএর পরিদর্শকরা ওই স্থাপনাগুলোতে যেতে পারেননি। তবে স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ইরানের ইসফাহান-সংলগ্ন স্থাপনাটিতে তেজস্ক্রিয় উপাদানের বড় অংশ এখনো মাটির নিচে চাপা রয়েছে।
আলোচনা থেমে থেমে এগোচ্ছে
এই মন্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা বারবার স্থবির হয়ে পড়ছে। গ্রোসি বলেন, আলোচনা “কখনো চলছে, আবার কখনো থেমে যাচ্ছে।”
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, ইরানের ইউরেনিয়াম মজুতের যাচাই ছাড়া কোনো চুক্তিই কার্যকর হবে না—“তা হবে কেবল একটি মরীচিকা।”
হরমুজ প্রণালি ও প্রস্তাবিত সমঝোতা
বর্তমান সংঘাতের কারণে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি প্রায় অচল হয়ে আছে, যেখানে দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল ও এলএনজি পরিবাহিত হয়।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরান একটি অন্তর্বর্তী প্রস্তাব দিয়েছে—হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র যেন ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেয়। পাশাপাশি পারমাণবিক ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার কথাও বলা হয়েছে।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তারা প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে। তবে তাদের ‘রেড লাইন’ স্পষ্ট—ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে হবে।
যদিও তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত।
Leave a comment