দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ডিজিটাল আইডি, ওয়ান ডিজিটাল ওয়ালেট’ নীতি চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। এ উদ্যোগের আওতায় জন্মের পর থেকেই প্রতিটি শিশুর জন্য একটি ডিজিটাল আইডি তৈরি করা হবে, যা পরবর্তীতে ডিজিটাল ওয়ালেটের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে।
এই ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যাংক এবং মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস)-এর সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষের জন্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা Rehana Asif Asad রাজধানীতে আয়োজিত ‘নতুন টেলিযোগাযোগ নীতিমালা: উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, দেশে মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনেক হলেও সেবার মান এখনো সন্তোষজনক নয়। এই পরিস্থিতি উন্নয়নে সরকার সংযোগ ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
তিনি আরও জানান, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের ৯০ শতাংশ মানুষকে ফাইভ-জি নেটওয়ার্কের আওতায় আনা এবং ব্যবহারকারীদের জন্য ১০০ এমবিপিএস গতির ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি ডিজিটাল আইডি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রসার এবং মোবাইল সেবায় কর কমানোও সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে।
উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষের স্মার্টফোন নেই। তাই স্মার্টফোনের দাম কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে কৃষক, দিনমজুর ও সাধারণ মানুষও সহজে ডিভাইস ব্যবহার করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে মোবাইল রিচার্জের বড় একটি অংশ কর হিসেবে কেটে নেওয়া হয়, যার ফলে ব্যবহারকারীরা পুরো সেবার সুবিধা পান না। ভবিষ্যতে এমন ব্যবস্থা করা হবে যাতে গ্রাহকরা বেশি পরিমাণ সেবা পান।
সেমিনারে টেলিকম খাতের বিশেষজ্ঞরা বিদেশি নিয়ন্ত্রণ, ডেটা সার্বভৌমত্ব এবং নীতিমালা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তবে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, নীতিমালা প্রণয়নে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে এবং দেশের স্বার্থই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেয়েছে।
Leave a comment