বাংলাদেশের রাজনীতিতে একই পরিবারের সদস্যদের ভিন্ন ভিন্ন আদর্শের অনুসারী হওয়া নতুন কিছু নয়, তবে মা ও মেয়ের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদে থেকে বিপরীতমুখী অবস্থান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেত্রীর মেয়ে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য পদের জন্য মনোনীত হওয়ার পর বিষয়টি এখন স্থানীয় ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘টক অব দ্য টাউন’-এ পরিণত হয়েছে।
গত সোমবার (২০ এপ্রিল) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ৩৬ জন সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এই তালিকায় নাম রয়েছে বিজয়নগর উপজেলার নাদিয়া পাঠান পাপনের। নাদিয়া বর্তমানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং ছাত্রজীবন থেকেই দলটির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত।
নাদিয়ার পারিবারিক পরিচয়ই মূলত এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তার মা সৈয়দা নাখলু আক্তার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনীতিতে এক পরিচিত মুখ এবং বিজয়নগর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি এর আগে জেলা কৃষক লীগের সহসভাপতি, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এবং জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মা যখন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায়ের নীতি নির্ধারক, মেয়ে তখন প্রধান বিরোধী দল বিএনপির সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী।
মেয়ের এই রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সৈয়দা নাখলু আক্তার গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, রাজনীতির ময়দানে মা ও মেয়ের পথ সম্পূর্ণ আলাদা। তিনি বলেন, “আমার রাজনীতির সঙ্গে মেয়ের কোনো সম্পর্ক নেই। সে ঢাকায় থেকে নিজের রাজনৈতিক আদর্শ অনুযায়ী কাজ করছে।”
তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাংশের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দলের কয়েকজন নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন যে, গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে পরিবারের মধ্যে ভিন্ন আদর্শের চর্চা দলের জন্য কতটা ইতিবাচক। যদিও পারিবারিক সূত্রের দাবি, ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক বিশ্বাসকে তারা সবসময় আলাদা রাখতেই পছন্দ করেন।
উল্লেখ্য, সংরক্ষিত নারী আসনের ক্ষেত্রে সরাসরি নির্বাচন হয় না; বরং সংসদে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত সাধারণ আসনের আনুপাতিক হারে এই আসনগুলো বণ্টন করা হয়। সেই সমীকরণ অনুযায়ী বিএনপি জোটের প্রাপ্ত ৩৬টি আসনের বিপরীতে নাদিয়া পাঠান পাপনকে মনোনীত করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্থানীয় রাজনীতিতে এই মা-মেয়ের ভিন্ন অবস্থানকে অনেকে ‘গণতান্ত্রিক সহনশীলতা’র উদাহরণ হিসেবে দেখলেও, তৃণমূল পর্যায়ে এটি কৌতূহল ও রাজনৈতিক বিতর্কের এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
Leave a comment