দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কুয়েত থেকে একসঙ্গে ৩০ জন প্রবাসী বাংলাদেশির মরদেহ দেশে এসে পৌঁছেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় কুয়েত এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে এই মরদেহগুলো ঢাকায় আনা হয়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
একই দিনে পৃথক আরেকটি ফ্লাইটে মালয়েশিয়া থেকে আরও দুই বাংলাদেশি প্রবাসীর মরদেহ দেশে পৌঁছায়। সব মিলিয়ে একদিনেই ৩২ জন রেমিট্যান্স যোদ্ধার মরদেহ বরণ করল বাংলাদেশ। বিমানবন্দর এলাকায় স্বজনদের উপস্থিতিতে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই মরদেহগুলো বেশ কিছুদিন আগেই দেশে আসার কথা ছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে কুয়েতগামী ও কুয়েত থেকে আসা একাধিক নিয়মিত ফ্লাইট বাতিল করা হয়। ফলে মরদেহগুলো নির্ধারিত সময়ে দেশে পাঠানো সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে সরকারের বিশেষ উদ্যোগে এবং দুই দেশের কূটনৈতিক তৎপরতায় চার্টার্ড ফ্লাইটের মাধ্যমে মরদেহগুলো দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়।
বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা শুরু হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, মরদেহ দাফন ও পরিবহনের জন্য প্রতিটি পরিবারকে তাৎক্ষণিক আর্থিক অনুদান প্রদান করা হচ্ছে।
জীবিকার সন্ধানে মরুভূমির দেশে পাড়ি জমানো এই প্রবাসীদের অধিকাংশই হৃদরোগ, সড়ক দুর্ঘটনা অথবা কর্মক্ষেত্রে অসুস্থতাজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে একযোগে এত বিপুল সংখ্যক মরদেহ দেশে ফেরায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রবাসী অধিকার কর্মীরা। তারা বলছেন, প্রবাসীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
Leave a comment