দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ সংকট ও ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বুধবার সিলেটে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, পর্যাপ্ত যোগ্যতা ও দক্ষতার অভাবে বড় সংখ্যক শূন্যপদ থাকা সত্ত্বেও ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া থমকে আছে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, বর্তমানে সারাদেশে প্রায় ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে। তবে এই পদের বিপরীতে উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “মাদরাসা থেকে পাস করা অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না। বিশেষ করে পবিত্র কোরআনের যথাযথ জ্ঞান অর্জনে ঘাটতি থাকায় তাদের নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।” এছাড়া কওমি ধারার শিক্ষার্থীদের স্বীকৃত সমমানের ডিগ্রির অভাবকেও এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার একটি বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি।
ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার এই সমস্যা দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ফল এবং এটি রাতারাতি তৈরি হয়নি। শিক্ষা সংস্কারে বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি পূর্ববর্তী সরকারগুলোর, বিশেষ করে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার আমলের শিক্ষা উন্নয়নের উদ্যোগসমূহকে গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি মনে করেন, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে ধারাবাহিক সংস্কার অপরিহার্য।
কেবল পাঠ্যপুস্তকীয় জ্ঞান নয়, বরং নৈতিক শিক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি যদি আমরা নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার উন্নয়ন ঘটাতে না পারি, তবে সমাজে কাঙ্ক্ষিত ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।” তিনি আরও বলেন, যোগ্য শিক্ষক তৈরির মাধ্যমেই একটি নৈতিক সমাজ গঠন করা সম্ভব।
Leave a comment