সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি | সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের পলমাটি গ্রামের কৃষক জাকির হোসেনের জমি থেকে রাতের অন্ধকারে গভীর গর্ত খুঁড়ে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বেকু (খননযন্ত্র) মালিক, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সুজন মিয়ার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা রাতের অন্ধকারে জমিতে গর্ত সৃষ্টি করে মাটি উত্তোলন করে তা বিক্রি করেছেন।
ভুক্তভোগী কৃষক জাকির হোসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, সুজন মেম্বার, বেকু চালক হাবিবুর ও পাভেল তার জমি থেকে জোরপূর্বক রাতের অন্ধকারে মাটি কেটে গ্রামের বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেছেন। প্রতিবাদ করলে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।
জাকির হোসেন বলেন, “আমরা তিন ভাই। বাড়িতে বসতঘর নির্মাণের জন্য জায়গা কম। এই জমি ভরাট করে ঘর নির্মাণ করে বসবাস করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সুজন মেম্বারের নির্দেশে হাবিবুর ও পাভেল আমাদের সর্বনাশ করেছে।” তিনি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে বলেন, অভিযুক্তদের দিয়ে তার জমির গর্ত ভরাট করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।
স্থানীয় পলমাটি গ্রামের মাতব্বর ফজলুর হক বলেন, “আমাদের গ্রামের আশপাশে সুজন মেম্বারের কোনো জমি নেই। তাহলে তিনি কীভাবে অন্যের জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করেন?”
একই গ্রামের কৃষক পাভেল মিয়া বলেন, “সুজন মেম্বার, হাবিবুর ও তার মেয়ের জামাই পাভেলের কারও জাকির হোসেনের জমির আশপাশে কোনো জমি নেই। তারা সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে ওই জমি থেকে গর্ত খুঁড়ে মাটি তুলে গ্রামের বিভিন্ন লোকের কাছে বিক্রি করেছেন।”
পলমাটি গ্রামের আমিন (সার্ভেয়ার) আব্দুর রাশিদ বলেন, “মাটি কাটা হয়েছে—এটি সত্য। তবে কার নির্দেশে হয়েছে, তা জানা নেই। তদন্ত করলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।”
স্থানীয়রা জানান, প্রভাব খাটিয়ে কৃষকের জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করা হয়েছে। তারা তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
অভিযুক্ত সুজন মেম্বারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত এবং কৃষিজমি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
Leave a comment