মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সদ্যঘোষিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে যুক্তরাজ্য। এরই ধারাবাহিকতায় সৌদি আরবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সফর শেষে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) পৌঁছেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হলেও তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে গভীর সংশয় রয়েছে। বিশেষ করে লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত বিমান হামলাকে তেহরান চুক্তির ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করার পর পরিস্থিতি নতুন করে জটিল হয়ে পড়েছে। এই সংকটময় মুহূর্তে যুদ্ধবিরতি যাতে পুরোপুরি ভেস্তে না যায়, সেজন্যই মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশগুলোর সাথে আলোচনায় বসেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।
আবুধাবিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে কিয়ার স্টারমারের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা, লোহিত সাগরের নৌ-নিরাপত্তা এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমনে আমিরাতের সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে আসার আগে কিয়ার স্টারমার জেদ্দায় সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। সেখানে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি আরবের সক্রিয় সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা পুনরুদ্ধার করা ব্রিটেনের জন্য এখন প্রধান অগ্রাধিকার।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের মাধ্যমে কিয়ার স্টারমার মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটেনের কূটনৈতিক প্রভাব পুনরায় সংহত করতে চাইছেন। যুদ্ধবিরতি ব্যর্থ হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম যে হারে বাড়তে পারে, তা রুখতেই ব্রিটেন এখন আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী।
- আন্তর্জাতিক সংবাদ আপডেট
- আবুধাবি কূটনৈতিক আলোচনা ২০২৬
- ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি চুক্তি
- ইসরায়েল লেবানন হামলা ও ব্রিটেন
- জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা
- ব্রিটিশ পররাষ্ট্রনীতি
- ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার মধ্যপ্রাচ্য সফর
- মোহাম্মদ বিন সালমান কিয়ার স্টারমার বৈঠক
- লোহিত সাগরের নিরাপত্তা
- সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রেসিডেন্ট বৈঠক
Leave a comment