মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল সীমিত পরিসরে ‘ট্যাকটিক্যাল’ বা কম শক্তির পারমাণবিক হামলার পরিকল্পনা করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকেরা। কাতারের হামাদ বিন খলিফা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক পলিসির অধ্যাপক Sultan Barakat এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কঠোর ভাষা এমন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আল-জাজিরাকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সামনে একটি বড় ধরনের অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটতে পারে এবং ইসরায়েল সীমিত পরিসরে ট্যাকটিক্যাল পারমাণবিক হামলা চালিয়ে নিজেদের পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে প্রকাশ করার চেষ্টা করতে পারে। তার মতে, এই ধরনের হামলা এমনভাবে পরিকল্পিত হতে পারে যাতে এর প্রভাব নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকে।
অধ্যাপক বারাকাত আরও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump সম্প্রতি যে ধরনের শব্দ ব্যবহার করছেন—যেমন ‘বিশাল বিস্ময়’ বা ‘সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে’—তা এই আশঙ্কাকে আরও জোরালো করছে। এসব বক্তব্য সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত বহন করে বলে মনে করছেন তিনি।
যদিও ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে কখনো পারমাণবিক অস্ত্রের মালিকানা স্বীকার করেনি, আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করা হয় যে দেশটির কাছে পারমাণবিক সক্ষমতা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই সক্ষমতাকে প্রতিরোধমূলক কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হলেও তা কার্যকর না হওয়ায় নীতিনির্ধারকদের মধ্যে নতুন করে ভাবনার উদ্রেক হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
ট্যাকটিক্যাল পারমাণবিক অস্ত্র সাধারণ পারমাণবিক বোমার তুলনায় কম শক্তিশালী এবং এগুলো মূলত যুদ্ধক্ষেত্রে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ব্যবহারের জন্য তৈরি। বারাকাতের মতে, ইসরায়েল এমন একটি হামলার মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতা প্রদর্শন করতে চাইতে পারে, তবে সেটি এমনভাবে করা হতে পারে যাতে তেজস্ক্রিয়তার বিস্তার সীমিত থাকে এবং বৃহৎ পরিসরের ধ্বংসযজ্ঞ এড়ানো যায়।
এদিকে হোয়াইট হাউস ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনার কথা স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা।
Leave a comment