ঈদুল আজহার আগে পশ্চিমবঙ্গে ষাঁড়, বলদ, গরু, বাছুর ও মহিষ জবাইয়ের ওপর বিধিনিষেধ বহাল রেখেছেন কলকাতা হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আদালত বলেছেন, ইসলামে গরু কোরবানি বাধ্যতামূলক ধর্মীয় অনুশীলন নয়।
বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি জয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ১৩ মে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকৃতি জানান।
আদালত বলেন, ২০২৬ সালের ১৩ মে জারি করা বিজ্ঞপ্তিটি মূলত ২০১৮ সালে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশনার বাস্তবায়ন। তাই এ বিজ্ঞপ্তি স্থগিত বা বাতিল করার কোনো ভিত্তি নেই।
রাজ্য সরকারের ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ষাঁড়, বলদ, গরু, বাছুর ও মহিষ জবাইয়ের আগে ‘জবাই-অযোগ্য’ সনদ নিতে হবে। শুধু অনুমোদিত কসাইখানায় এসব পশু জবাই করা যাবে।
আদালত আরও বলেন, অবৈধ পশু জবাই ঠেকাতে কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করতে পারবে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় সনদ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দায়িত্ব রাজ্য সরকারের।
মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক আখরুজ্জামান আদালতে দাবি করেন, বকরিদ উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গ সরকার পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইনের ১২ ধারার অধীনে ধর্মীয় উদ্দেশ্যে পশু জবাইয়ের কোনো ছাড় দেয়নি। ফলে মুসলমানরা ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী কোরবানি করতে পারবেন না।
তিনি আরও বলেন, অধিকাংশ মুসলমানের জন্য মহিষ, ষাঁড় বা বলদের মতো বড় পশু কোরবানি করাই অর্থনৈতিকভাবে সম্ভব। কারণ ঈদের আগে ছাগল ও ভেড়ার দাম বেড়ে যায়।
তবে আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, সুপ্রিম কোর্ট আগেই রায় দিয়েছেন যে গরু কোরবানি ঈদুল আজহার অপরিহার্য অংশ নয় এবং ইসলামে এটি বাধ্যতামূলক ধর্মীয় প্রথাও নয়।
ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন, এই পর্যবেক্ষণ যুক্ত করে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তি সংশোধন করতে। একই সঙ্গে আইনের ১২ ধারার অধীনে ছাড় দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে আলাদাভাবে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে।
আদালত ঈদুল আজহা সামনে রেখে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
Leave a comment