ভারতের মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় নাসিকের দিন্দোরি এলাকায় একটি কোচিং সেন্টারের অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ৩ জন প্রাপ্তবয়স্ক এবং ৬ জনই শিশু। মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল, ২০২৬) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে এনডিটিভি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সুনীল দারগুডে (৩২) তাঁর মারুতি সুজুকি এক্সএল৬ গাড়িটিতে করে পরিবারসহ অনুষ্ঠান শেষ করে গ্রামের দিকে ফিরছিলেন। দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য তিনি মূল সড়ক ছেড়ে একটি ‘শর্টকাট’ মাটির রাস্তা বেছে নেন। অন্ধকার ও সরু ওই রাস্তায় গাড়ি চালানোর সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশেই থাকা একটি গভীর কূপের দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে গাড়িটি সজোরে ভেতরে পড়ে যায়।
জানা গেছে, কূপটি প্রায় ৪০ ফুট গভীর পানিতে পূর্ণ ছিল। বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। তবে গভীর রাত ও পর্যাপ্ত আলোর অভাব থাকায় প্রাথমিক উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও উদ্ধারকর্মীরা বিশাল ক্রেনের সাহায্যে গাড়িটি পানি থেকে টেনে তোলেন। কিন্তু ততক্ষণে গাড়ির ভেতরে থাকা ৯ জনই মারা যান। শিশুদের মধ্যে একজনের দেহ গাড়ির বাইরে পানির ওপর ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়।
নিহতরা হলেন—গাড়িচালক সুনীল দারগুডে, তাঁর স্ত্রী রেশমা, মেয়ে গুণবন্তী, শ্যালিকা আশা এবং তাঁর পাঁচ সন্তান—শ্রেয়শ, শ্রাবণী, শ্রদ্ধা, সৃষ্টি ও আত্মীয়ের সন্তান সমৃদ্ধি।
এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের চরম অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, রাস্তাটি কয়েক বছর আগে তৈরি করা হলেও পাশের বিপজ্জনক কূপটি বন্ধ করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পৌর কর্তৃপক্ষ এবং কূপের মালিকের মধ্যে আইনি বিবাদের কারণে জায়গাটি অরক্ষিত অবস্থায় ছিল। এ ঘটনায় অবহেলাজনিত মৃত্যু এবং বেপরোয়া গাড়ি চালানোর ধারায় একটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
Leave a comment