ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা আরও ঘনীভূত হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস’ বা ‘দ্য সানডে টাইমস’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের নবনির্বাচিত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কারণে বর্তমানে অচেতন অবস্থায় রয়েছেন। তিনি তেহরান থেকে ৮৭ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত শহর কোমে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
প্রতিবেদনে মার্কিন ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি কূটনৈতিক নোটের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে। ওই নথি অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে মোজতবা দায়িত্ব নিলেও বর্তমানে তিনি শাসনকার্য পরিচালনার সক্ষমতায় নেই। এমনকি আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে চলমান যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত আলোচনাতেও তাঁর কোনো ভূমিকা নেই বলে দাবি করা হয়েছে।
টাইমসের হাতে আসা ওই নথিতে প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ নেতার সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোমে আলী খামেনির দাফনের প্রস্তুতিও চলছে, যা শিয়া ধর্মীয় ক্ষমতার অন্যতম কেন্দ্র। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সেখানে একটি বিশাল সমাধি নির্মাণের প্রাথমিক কাজও শনাক্ত করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পরিবারের সদস্যদের একই স্থানে দাফন করার লক্ষ্যে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মার্চের শুরুতে বাবার উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মোজতবাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। এমনকি সোমবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তাঁর একটি এআই (AI)-নির্মিত ভিডিও প্রচার করা হয়, যেখানে তাঁকে ইসরায়েলের দিমোনা পারমাণবিক স্থাপনার মানচিত্র বিশ্লেষণ করতে দেখা যায়। তবে ভিডিওতে তাঁর প্রকৃত কণ্ঠস্বর না থাকায় তাঁর কোমায় থাকার খবরগুলো আরও জোরালো হয়েছে।
এদিকে, ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করছেন যে নেতা এখনো দেশ ‘নিয়ন্ত্রণ’ করছেন। তবে ৮৬ বছর বয়সী প্রয়াত নেতা আলী খামেনির জানাজা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা। শিয়া রীতি অনুযায়ী দ্রুত দাফনের নিয়ম থাকলেও ‘নজিরবিহীন জনসমাগমের আশঙ্কায়’ তা স্থগিত রাখা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা এড়াতে অত্যন্ত গোপনীয়তা ও কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দাফন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে তেহরান।
Leave a comment