ইরানের ইসফাহান প্রদেশে বিধ্বস্ত মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলটদের উদ্ধার অভিযানকে কেন্দ্র করে দু’দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (০৬ এপ্রিল, ২০২৬) ইরানি সেনাবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, রোববার ভোরে মার্কিন বাহিনীর ‘একাধিক আক্রমণকারী বিমানের’ হামলায় ইরানের চারজন জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, ওই কর্মকর্তারা সরাসরি আকাশপথে আসা শত্রু পক্ষের যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার এবং সশস্ত্র ড্রোনের বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। এক পর্যায়ে ইরানি বাহিনীর একটি নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র (MANPADS) একটি মার্কিন বিমানকে আঘাত করে। এর পরপরই অন্য মার্কিন বিমানগুলো পাল্টা আক্রমণ চালালে ঘটনাস্থলেই চার ইরানি কর্মকর্তা প্রাণ হারান।
নিহত কর্মকর্তাদের পরিচয় ও পদমর্যাদা প্রকাশ করেছে তেহরান। তারা হলেন—একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, একজন কর্নেল, একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল এবং একজন ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট। একই এলাকায় পদস্থ কর্মকর্তাদের এমন প্রাণহানিকে ইরানি সামরিক কমান্ডের জন্য বড় ধরনের ক্ষতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ৩ এপ্রিল ইসফাহানের কাছে মধ্য ইরানের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক ‘এফ-১৫ ই’ (F-15E) যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। ওয়াশিংটনের দাবি, তারা সফলভাবে ওই বিমানের দুই পাইলটকে উদ্ধার করেছে। তবে তেহরান এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, ওই উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের আরও চারটি আকাশযান ধ্বংস করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে দুটি ‘সি-১৩০ হারকিউলিস’ পরিবহন বিমান এবং দুটি ‘ব্ল্যাক হক’ হেলিকপ্টার।
এদিকে, এই উদ্ধার অভিযানের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ভিন্নধর্মী তথ্য উঠে আসছে। কিছু সংবাদমাধ্যমের দাবি, এটি কেবল পাইলট উদ্ধারের অভিযান ছিল না, বরং এটি ছিল একটি ‘প্রতারণামূলক অভিযান’ (Decoy Operation)। এর মূল লক্ষ্য ছিল উদ্ধার অভিযানের আড়ালে ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত লুট বা ধ্বংস করা। যদিও পেন্টাগন বা তেহরান—কোনো পক্ষই এই ইউরেনিয়াম চুরির বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
Leave a comment