মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে এবার ইরানকে নজিরবিহীন সামরিক ধ্বংসযজ্ঞের হুমকি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (০৬ এপ্রিল, ২০২৬) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, নির্ধারিত আলটিমেটাম শেষ হওয়ার মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যে ইরানের সমস্ত সেতু এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করার সক্ষমতা ও পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় খুলে না দেয়, তবে ওয়াশিংটন তার চূড়ান্ত সামরিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করবে। তিনি দাবি করেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে এমন এক রণকৌশল রয়েছে যা দিয়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একটি দেশের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া সম্ভব।
মার্কিন শক্তির দম্ভোক্তি প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের সামরিক সক্ষমতা এখন যে পর্যায়ে, তাতে মঙ্গলবার রাত ১২টার আলটিমেটাম শেষ হওয়ার পর রাত ৪টার মধ্যেই ইরানের প্রতিটি সেতু ধ্বংস হয়ে যাবে। তাদের প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র অকেজো করা হবে—সেগুলো জ্বলবে, বিস্ফোরিত হবে এবং পুনরায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা চাইলেই মাত্র চার ঘণ্টায় এই ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সম্পন্ন করতে পারি, যদিও আমরা এমন রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতি চাই না।”
এর আগে, লন্ডন সময় মঙ্গলবার রাত ১২টার মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’র ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়ার জন্য তেহরানকে সময় বেঁধে দেয় হোয়াইট হাউস। অন্যথায় ইরানকে ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই রুটটি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বেসামরিক স্থাপনায় হামলার হুমকি আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী হলেও, এটি মধ্যপ্রাচ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের শঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। আলজাজিরাসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এই পরিস্থিতিকে বর্তমান দশকের সবচেয়ে বড় ভূ-রাজনৈতিক সংকট হিসেবে অভিহিত করছে।
Leave a comment