মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনার মাঝে ইরান এক বড় ধরনের ধাক্কা খেল। দেশটির প্রভাবশালী সামরিক শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস-এর (আইআরজিসি) গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান মেজর জেনারেল সৈয়দ মজিদ খাদেমি এক বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। সোমবার (৬ এপ্রিল) ভোরে পরিচালিত এই হামলাটিকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করে আইআরজিসি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে খবরটি নিশ্চিত করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সির বরাতে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘মার্কিন-জায়নবাদী শত্রুর’ (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল) কাপুরুষোচিত হামলায় জেনারেল খাদেমি প্রাণ হারিয়েছেন। আইআরজিসি এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে নিরাপত্তা ও কৌশলগত কারণে হামলাটি ঠিক কোথায় এবং কী ধরণের সমরাস্ত্র ব্যবহার করে পরিচালনা করা হয়েছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি তেহরান।
মেজর জেনারেল সৈয়দ মজিদ খাদেমি আইআরজিসির গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। বিশেষ করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের ছায়া যুদ্ধ এবং প্রতিরক্ষা কৌশলের অন্যতম প্রধান কারিগর হিসেবে তাকে বিবেচনা করা হতো। তার এই আকস্মিক মৃত্যু ইরানের সামরিক গোয়েন্দা কাঠামোর জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের পর মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধে এটি এখন পর্যন্ত অন্যতম বড় একটি ঘটনা। তেহরান ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছে যে, এই ‘রক্তঋণ’ তারা সুদে-আসলে শোধ করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, একজন শীর্ষস্থানীয় গোয়েন্দা প্রধানকে লক্ষ্যবস্তু করার অর্থ হলো সংঘাত এখন সরাসরি উচ্চপদস্থ কমান্ড পর্যায়ের দিকে মোড় নিয়েছে। এর ফলে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ড বা মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরানের তরফ থেকে বড় ধরণের পাল্টা আক্রমণের সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠেছে।
Leave a comment