মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া আল্টিমেটামের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্র নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। স্থানীয় সময় রোববার (৫ এপ্রিল) ভোরে ইসরায়েল এবং কুয়েতের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ইরান একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই বহুপাক্ষিক যুদ্ধ এখন এক চূড়ান্ত সংঘাতের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
হামলার পরপরই ইসরায়েল ও কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) সক্রিয় হয়ে ওঠে। উভয় দেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা ইরানের ছোড়া অধিকাংশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার চেষ্টা করছে। তবে এই হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোনো প্রাণহানি ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এই হামলার ঠিক একদিন আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ ইরানকে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে ৪৮ ঘণ্টার চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমাধান না হলে ইরানে ‘নরক’ নেমে আসবে। ট্রাম্পের এই চরম হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান এই পাল্টি আঘাত হানল।
উল্লেখ্য, গত এক মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তার মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ইরান দাবি করেছে, তারা মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক এবং অর্থনৈতিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। এর বিপরীতে, ইরানের খুজেস্তান প্রদেশের একটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় হামলার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। তেহরান এই হামলার জন্য সরাসরি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে।
ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ডের জেনারেল আলী আবদোল্লাহি আলিয়াবাদি ট্রাম্পের হুমকিকে ‘বিবেচনাহীন’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, “আমেরিকার জন্য নরকের দরজা খুলে যাবে।” অন্যদিকে, ট্রাম্প একটি ভিডিও প্রকাশ করে ইরানে বড় ধরনের বিস্ফোরণের দাবি করেছেন, যদিও এর সত্যতা এখনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং এই পাল্টাপাল্টি হামলা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।
Leave a comment