২০২৬ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশে রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের পর যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। গত দেড় দশকে যারা বিএনপি বা জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে ‘নিপীড়নের শিকার’ দাবি করে ব্রিটেনে আশ্রয় চেয়েছিলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাদের আবেদনগুলো আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।
আন্তর্জাতিক শরণার্থী আইন এবং ১৯৫১ সালের শরণার্থী কনভেনশনের ১সি (৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তির নিজ দেশে পরিস্থিতির মৌলিক ও স্থায়ী পরিবর্তন ঘটে এবং তার জীবন বা নিরাপত্তার জন্য কোনো ঝুঁকি না থাকে, তবে শরণার্থী মর্যাদা বাতিল করা যেতে পারে। যুক্তরাজ্যের ইমিগ্রেশন রুলস-এর ৩৩৯এ ধারাও একই নীতি প্রতিপাদন করে।
ব্রিটিশ আইনজীবীরা বলছেন, বর্তমানে আবেদনকারীদের নিজ দল (বিএনপি-জামায়াত) ক্ষমতায় থাকায় হোম অফিস তাদের ওপর সরকারি নিপীড়নের ভয় আর অবশিষ্ট নেই বলে গণ্য করছে। ফলে ঝুলে থাকা হাজার হাজার আবেদন ঢালাওভাবে বাতিল হওয়ার এবং আবেদনকারীদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
২০২৪ সালে ৭,২২৫ জন বাংলাদেশি যুক্তরাজ্যে আশ্রয় আবেদন করেছিলেন, যা দেশটিকে শীর্ষ পাঁচটি আবেদনকারী দেশের তালিকায় নিয়ে আসে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ ফেরত পাঠানোর সমঝোতা স্মারক আরও দ্রুত কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
তবে পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তনে উল্টো চিত্রও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ৫ই আগস্টের পর আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী-এমপি ও শতাধিক নেতাকর্মী যুক্তরাজ্যে আশ্রয় চেয়েছেন, যাদের অনেকের আবেদন ইতিমধ্যে মঞ্জুর হয়েছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অতীতে নির্যাতিতদের সহায়তা তাদের নীতি হলেও হোম অফিসের বর্তমান আইনি সিদ্ধান্ত ব্রিটেনের অভ্যন্তরীণ বিষয়। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিরা দাবি করেছেন যে, প্রেক্ষাপট বদলালেও প্রতিটি মামলার স্বতন্ত্র ভিত্তি রয়েছে এবং নেতাকর্মীরা এখনও ঝুঁকির মুখে রয়েছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইউরোপের অন্যান্য দেশ যেমন জার্মানি, ফ্রান্স ও ইতালিতেও একই ধরনের আইনি পর্যালোচনা শুরু হতে পারে, যার ফলে বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরেও উদ্বেগ বাড়ছে।
Leave a comment