মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাত বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পে বড় ধরনের কাঁচামাল সংকটের আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি ও পেট্রোকেমিক্যাল বাজারের অস্থিরতার প্রভাবে দেশের ওষুধ উৎপাদনের প্রধান উপকরণ বা এপিআই-এর দাম গড়ে প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। রোববার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে আয়োজিত ‘এশিয়া ফার্মা এক্সপো ২০২৬’-এ অংশ নেওয়া শিল্প মালিক ও আমদানিকারকরা এই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই)-এর সভাপতি আব্দুল মুক্তাদির জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলার থেকে বেড়ে ১২০ ডলারে পৌঁছেছে, যা কেমিক্যাল ও উৎপাদন উপকরণের খরচকে অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি করেছে। কোম্পানিগুলো বর্তমানে জেনারেটর চালিয়ে উৎপাদন অব্যাহত রাখতে বাধ্য, ফলে ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে।
ওষুধের কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘বিবিকন’-এর এমডি ডি.এইচ. শামীম বলেন, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি সত্ত্বেও খুচরা মূল্যে পরিবর্তন না হওয়ায় অনেক কোম্পানি লোকসানের মুখে পড়েছে। যদি সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়, তবে এই ক্ষতি সামলানো কঠিন হয়ে যাবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই ভারত ও চীনের বাইরে বিকল্প উৎস খোঁজার নির্দেশ দিয়েছে, তবে বিএপিআই-এর মহাসচিব ডা. মোহাম্মদ জাকির হোসেন জানান, নতুন উৎস থেকে কাঁচামাল আমদানির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সাধারণত ৯ থেকে ১৪ মাস সময় লাগে। বিশ্ব এখনো মূলত চীন ও ভারতের ওপর নির্ভরশীল, বিশেষ করে পেট্রোকেমিক্যাল নির্ভর কাঁচামালের ক্ষেত্রে।
এশিয়া ফার্মা এক্সপোতে ২০টি দেশের ৪০০-এর বেশি প্রদর্শক অংশ নিয়েছেন। সেখানে বৈশ্বিক সংকটের সময়ে ওষুধ শিল্প টিকে থাকার প্রযুক্তি ও কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যাতে উৎপাদন ও সরবরাহ অব্যাহত রাখা যায়।
Leave a comment