মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে নেওয়ার’ হুমকি দেওয়ার পর দেশটিতে সামরিক অভিযান কয়েকগুণ জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী। ইরানের রাজধানী তেহরান, কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ শহর কারাজ এবং ইস্পাহানসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে দফায় দফায় বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে।
একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তেহরানের শতবর্ষী ঐতিহাসিক চিকিৎসা গবেষণা কেন্দ্র ‘পাস্তুর ইনস্টিটিউট’, একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু এবং দুটি বৃহৎ ইস্পাত কারখানায় সরাসরি আঘাত হানা হয়েছে। বিশেষ করে ইস্পাহান নগরীর ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির নিকটবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ্যে এসেছে, যা এই অভিযানের ভয়াবহতা নির্দেশ করে।
তেহরানের পশ্চিমে অবস্থিত শিল্পনগরী কারাজেও ব্যাপক হামলার খবর নিশ্চিত করেছে আল বোরজ প্রদেশের গভর্নরের কার্যালয়। সেখানে একটি সেতুতে বিমান হামলায় অন্তত ২ জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মাঝরাতে জঙ্গিবিমানের বিকট শব্দে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে।
এই চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা একটি বড় পরিসরের যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি, যা গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে গ্রাস করবে এবং বিশ্বজুড়ে নাটকীয় প্রভাব ফেলবে।”
গুতেরেস বিশেষভাবে সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেল ও খাদ্যের দাম ইতোমধ্যে আকাশচুম্বী হতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বের দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে। তিনি বেসামরিক অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনার সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কাছে আমার বার্তা স্পষ্ট: মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় এড়াতে যুদ্ধ বন্ধ করার এখনই সময়।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের কঠোর সামরিক অবস্থান এবং ইরানের পাল্টা হুশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘমেয়াদী এবং অনিয়ন্ত্রিত সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যার প্রভাব সারা বিশ্বের ওপর পড়তে শুরু করেছে।
Leave a comment