লিবিয়ায় ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে সুনামগঞ্জের ১২ তরুণের মৃত্যুর ঘটনায় দিরাইয়ে চার মানবপাচারকারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। দালালদের প্রতারণা ও অমানবিক আচরণের বিচার চেয়ে নিহত সোহানুর রহমানের বাবা ছালিকুর রহমান সোমবার রাত ১২টার দিকে দিরাই থানায় মামলাটি করেন। এতে চারজনের নাম উল্লেখসহ আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
নিহতদের স্বজনদের অভিযোগ, দিরাই উপজেলার একটি শক্তিশালী দালাল চক্র জনপ্রতি প্রায় ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে লিবিয়া হয়ে গ্রিস পাঠানোর চুক্তি করেছিল। দালালরা নিরাপদ ও বড় নৌযানের প্রতিশ্রুতি দিলেও লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর অভিবাসীদের ছোট ও জরাজীর্ণ নৌকায় গাদাগাদি করে তুলে দেওয়া হয়। এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রাই শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।
উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের তথ্য অনুযায়ী, মাঝসমুদ্রে দীর্ঘ সময় আটকে থাকার ফলে তীব্র খাদ্য ও পানির সংকট দেখা দেয়। অনাহার ও পানিশূন্যতায় একে একে যাত্রীরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় জানা গেছে, কেউ মারা গেলে পাচারকারীরা মরদেহ সাগরে ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
গত শনিবারের এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত ১৮ বাংলাদেশির মধ্যে ১২ জনই সুনামগঞ্জের বাসিন্দা। তাদের মধ্যে দিরাই উপজেলার ৬ জন, জগন্নাথপুরের ৫ জন এবং দোয়ারাবাজারের ১ জন রয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন স্থানীয়রা।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। আসামিদের গ্রেফতারের স্বার্থে আপাতত তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। তবে মানব পাচারকারী চক্রের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি জানান।
Leave a comment